অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

বুধবার থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ, আইন অমান্যে জেল ২ বছর

a-20190908110604জুমবাংলা ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরের মেঘনার ১০০ কিলোমিটার এলাকায় আগামীকাল বুধবার (৯ অক্টোবর) থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশসহ সকল প্রজাতির মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় এই ২২ দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর মাছ শিকার বন্ধে সভা-সেমিনারসহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম করেছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদী অববাহিকায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় ২২ দিন ইলিশসহ সকল প্রজাতির মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময় আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় করা যাবে না। বরফকলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি অন্য কোথাও থেকে বরফ আসতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন তারা। এছাড়াও নৌঘাট-সংলগ্ন জ্বালানি তেলের দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সচেতনতামূলক বিভিন্ন সভা-সেমিনার করছেন জেলেদের নিয়ে।

আরো জানা যায়, আশ্বিনের পূর্ণিমার জোয়ার ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুম। ইলিশ মাছের ডিম ছাড়ার সময় হলে সাগরের লোনা পানি থেকে মিঠা পানিতে প্রবেশ করে। এ জন্য ইলিশ মাছের অবাধ প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মাছ ধরা নিষেধ করেছেন মৎস্য বিভাগ। এ সময় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে বলেও জানা যায়।

এ জেলায় প্রায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে নিবন্ধিত রয়েছে ৪২ হাজার জেলে। এদের সবাই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছরই বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল সঠিকভাবে বণ্টন হয় না। ফলে অনেক জেলে পরিবারকে কষ্টে দিন কাটাতে হয় এ সময়। এ জন্য এই বছর সরকারি প্রণোদনাগুলো সঠিকভাবে প্রকৃত জেলেদের মাঝে বণ্টনের দাবি জানান তারা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এইচ এম মহিব উল্যা বলেন, ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রতিদিন নদীতে মৎস্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান চলবে। এ আইন অমান্য করলে ১ থেকে ২ বছরের জেল অথবা জরিমানা এবং উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে জেলেদের নিয়ে অবহিতকরণ সভা-সেমিনার করা হয়েছে। এ সময় কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া তিনি জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় জেলেসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।



জুমবাংলানিউজ/পিএম




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


Add Comment

Click here to post a comment

সর্বশেষ সংবাদ