আইন-আদালত

আবরার হত্যাকাণ্ড, চার্জশীটে ঢুকছেন নতুন ৬ জন

125জুমবাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন আবরারের বাবা। এই ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। ৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তারা হচ্ছে জিসান, শাদাত, মোর্শেদ ও তানিম। চার্জশীটের বাইরে আটক করা হয় অমিত সাহাকে। গ্রেফতারের পর এখন পর্যন্ত চারজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দীতে আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার খবর পাওয়া গেছে। তা প্রমাণিত হলে আবরার হত্যাকাণ্ডে চার্জশীটভুক্ত আসামি হতে পারে ২৪-২৫ জন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবরার হত্যায় গ্রেপ্তার ১৯ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সর্বশেষ গতকাল রবিবার ঢাকার মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও অনিক সরকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া গতকাল শামীম বিল্লাহ ও মোয়াজ আবু হুরায়রাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে তদন্তকারী ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, বুয়েটের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ২২-২৩ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। আরও একাধিক আসামি রয়েছেন যাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করা যাবে। সব মিলে এ হত্যাকাণ্ডে ২৪-২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হবে চার্জশিটে। জানা গেছে আগামী ১৩ নভেম্বরের আগেই আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা শাখার আরেক এক কর্মকর্তা জানান, মুজাহিদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে অন্য তিনজনের জবানবন্দির বেশ মিল পাওয়া গেছে। তাদের জবানবন্দিতে আবরার হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে। কারা কীভাবে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছেন, কারা ডেকে এনেছেন, কারা নির্যাতন করেছেন ও কারা লাশ বহন করেছেন কিংবা কারা এই হতাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের প্রত্যেকের পুঙ্খানুপুঙ্খ ভূমিকার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে। এখন মামলার আলামত, আসামিদের গোপন মেসেঞ্জারে কথোপকথন ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির পরীক্ষাগারে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিভিন্নজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। তারপর চার্জশিট তৈরির কাজ শুরু হবে শিগগিরই। সাক্ষীদের বক্তব্য ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে যাদের নাম পাওয়া যাবে তারাও চার্জশিটভুক্ত আসামি হবেন। সে ক্ষেত্রে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ থেকে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হবে চার্জশিটে।



জুমবাংলানিউজ/এসআর

সর্বশেষ সংবাদ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


Add Comment

Click here to post a comment