জাতীয়

আমি খোসা, বাড়ি গাড়ি কিচ্ছু নাই; ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে মুখ খুললেন পাখি ভাই

Dark Mode

জুমবাংলা ডেস্ক : আলোচিত ব্যক্তি ঘটক পাখি ভাই। আসল নাম গাজী আশরাফ হোসেন। ৪৫ বছরে সাড়ে ১৮ হাজার বিয়েতে মিডিয়া হিসেবে কাজ করেছেন। সে তালিকায় রয়েছে এমপি-মন্ত্রী, সচিব, ব্যবসায়ী, গ্রুপ অব কোম্পানির ছেলে-মেয়েও। দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে পাখি ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
পাখি
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক হিসাব তলব করে কী লাভ হবে? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা তো দূরের কথা ঢাকায় বাড়ি, গাড়ি, সম্পদ- কিচ্ছুই নাই। আমি তো একটা খোসা। আমার আবার কী সম্পদের হিসাব করবে, কন?’

পাখি ভাই বলেন, ‘দুটি অফিস নিয়ে ঘটকালি করি। পেপার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিই। মাস শেষে বাসা ভাড়া দিতে হয়। মেয়ে অসুস্থ, তাকে ওষুধ দিতে হয়। মানুষে তো আর জানে না, আমি খোসা। তারা চায় আমি হয়রানি হই। এ জন্যই এনবিআর দিয়ে এটা করাইছে। এনবিআরকে তারা বলছেÑ আমি অনেক বড় লোক। কিন্তু আমি তো দুই নম্বরি করি না।’

‘কারা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তারা কি ঘটকালি পেশার?’ জবাবে পাখি ভাই বলেন, ‘তারা আমার সামনা-সামনিই আছে। তবে ঘটকালি পেশায় নাই। এ পেশাটা এত সহজ না। অনেকেই তো আসছে- আজ আছে, কাল নাই। আমি তো পবিত্র পেশায় আছি দীর্ঘদিন ধরে। পেশার লোকজন কেন ক্ষতি করবে? যারা আমার পেছনে লেগে আছে তারা বড় ব্যবসা করে, কোটি কোটি টাকার মালিক। আসলে অনেকেই আছেন, যাদের ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য আসেন। আমিও চেষ্টা করি।’

তিনি বলেন, ‘আমার এখানে এসে ছেলে-মেয়ে একে অপরকে দেখাদেখি করে। পছন্দ হলে বিয়ে হয়। আবার ধরেন, একজনের বিয়ে হলো না। মেয়েকে ছেলে পছন্দ করল না, আবার ছেলেকে মেয়েরা পছন্দ করল না, তখন অন্য পাত্র-পাত্রীকে দিয়ে চেষ্টা করাই। এটা সময়সাপেক্ষ। বিয়ে করতে হলে ধৈর্য ধরতে হয়। কিন্তু কেউ কেউ আছে বিয়ে না হলেই টাকা ফেরত চায়। আমি তাদের কাছে মাফ চাই। এতেই তারা আমার ক্ষতি করতে চায়।’

আয়-ব্যয়ের বিষয়ে পাখি ভাই বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে কোনো মাসে চার থেকে পাঁচটা বিয়ে, আবার কোনো মাসে একটাও হয় না। অথচ মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা অফিস ভাড়া ও ছয়জন স্টাফের বেতন গুনতে হয়। এতে টাকা জমিয়ে ব্যাংকে রাখা, বাড়ি-গাড়ি কেনার মতো কিছুই থাকে না। কোনো মতে বেঁচে আছি। আসলে আমি জিরো।’ পাত্র-পাত্রী দেখানো নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘আমার এখানে মন্ত্রী-সচিবদের ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে সব শ্রেণির সরকারি-বেসকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীরা আসেন। প্রতারণা করলে ৪৫ বছর ধরে এ পেশায় টিকে থাকতে পারতাম না। টাকা-পয়সাও মানুষ বুঝে নিই। যার যেমন সামর্থ্য তারা তেমন টাকা-পয়সা দেয়। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিই।’

শুরুটা নিয়ে ঘটক পাখি ভাই বলেন, ‘আমার বাড়ি বরিশাল লঞ্চঘাটের উল্টোপাশে, কাউয়্যার চরে। সেখান থেকে চাকরি করতে যাই খুলনার নিউজপ্রিন্ট মিলে। তখন থেকেই দু-একটি বিয়ের ঘটকালি শুরু করি, যা একেবারে বিনাপারিশ্রমিকে। এর পর ঢাকায় এসে পুরান ঢাকার নবাবপুরে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা হোটেল, আলুবাজার, সিদ্দিকবাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলি। আর ইস্টার্নপ্লাজায় আছি দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে।’



জুমবাংলানিউজ/এসওআর

সর্বশেষ সংবাদ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


জনপ্রিয় খবর

Add Comment

Click here to post a comment

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় খবর