Views: 14

জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ সিলেট

উড়োজাহাজেই মৃত্যু ওমানপ্রবাসীর : কী ঘটেছিল ফ্লাইটে

451256_180
রানা আহমেদ – ছবি : সংগৃহীত
জুমবাংলা ডেস্ক : অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন ওমান প্রবাসী রানা আহমেদ (৪৯)। কিন্তু দেশে থাকা প্রিয় মানুষগুলোর মুখ দেখার আগেই এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হয় তাকে।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ওমানের রাজধানী মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দেয়ার পর পরই উড়োজাহাজের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়েন রানা আহমেদ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুরা তাকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে তিনি উড়োজাহাজের ভেতরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এমতাবস্থায় উড়োজাহাজটি সিলেটের এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তার আগেই বিমানবন্দরে হতভাগ্য রানার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ জানার পর বিমানবন্দরেই স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা দিয়ে রানা আহম্মদের (৪৯) লাশ স্বজনরা নিয়ে যান। লাশ হস্তান্তরের সময় বিভিন্ন সংস্থার সদস্য ছাড়াও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব ডাক্তার, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সিলেট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বিমানে কিভাবে যাত্রী মারা গেলেন তা জানতে শনিবার সন্ধ্যার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) ও মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তাহেরা খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, শনিবার (২৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-২২২) মাস্কাট-সিলেট-ঢাকা রুটের ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। আকাশে উড়ার কিছুক্ষণ পরই ইকোনোমি ক্লাসের যাত্রী রানা আহাম্মদ তার অসুস্থতার কথা জানান ফ্লাইটে দায়িত্বরত কেবিন ক্রুদের। সময় বাড়ার সাথে সাথে রানা অচেতন হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানানো হয় ওই ফ্লাইটের পাইলটকে। ওই অবস্থায় পাইলট ফ্লাইটটি কোথাও অবতরণ না করে সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করান। এরপর বিমানের ডাক্তার ডেকে আনা হয়। তিনি তার প্রেশার, পালস পরীক্ষার পর জানান যাত্রী উড়োজাহাজের ভেতরেই মারা গেছেন। পরে বিমানবন্দরের দায়িত্বরতরা স্বজনদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে লাশ হস্তান্তর করেন।

শনিবার রাতে ওই ফ্লাইটের চিফ পার্সার সিপরার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশের জনপ্রিয় একটি দৈনিক পত্রিকাকে বলেন বলেন, ফ্লাইট টেকঅফ করার পরই যাত্রী আনকনসাস (সিক) হয়ে পড়েন। এরপর আমাদের পক্ষ থেকে তাকে যতটুকু সম্ভব সেবা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। যাত্রীর কী হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাব দেয়ার আগেই তিনি বলেন, আমি একটু ব্যস্ত। কিছুক্ষণ পরে কথা বলি। এরপর তাকে আর পাওয়া যায়নি।

ওই ফ্লাইটের অপর একজন কেবিন ক্রু নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, দুই দিন আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসনিক দফতর থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, মিডিয়ার সাথে যাতে আমরা কেউ কোনো কথা না বলি। যার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে এসব বিষয় নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ বাড়াবাড়ি করছেন বলে জানান তিনি।

সিলেট স্টেশনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীর মারা যাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে শুধু বলেন, সিলেট বিমানবন্দরে প্লেন ল্যান্ড করার পরই বিমানবন্দরে অপেক্ষারত তার এক ভাইকে ডেকে এনে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। কোনো ধরনের আপত্তি নেই এমন মুচলেকা দেয়ার পর লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, লাশ হস্তান্তরের সময় সিভিল এভিয়েশনের একজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পরে শহর থেকে বিমানের নিজস্ব ডাক্তার ডেকে আনা হয়। ডাক্তার পরীক্ষা করে যাত্রীর পালস খুঁজে পাননি। পরে তিনি জানান, যাত্রী উড়োজাহাজের ভেতরেই মারা গেছেন। মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে হার্ট ফেইলুর উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় নিহত যাত্রীর পকেট থেকে একটি ব্যথার ওষুধ পাওয়া গেছে। মনে হচ্ছে হার্ট ফেইল করেই যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিলেট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিহতের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে গেছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

গত রাতে ওই ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একজন পাইলট নাম না জানিয়ে শুধু বলেন, ফ্লাইটটি মাস্কাট থেকে টেকঅফ করার পর যখন যাত্রীদের খাওয়ার পর্ব শেষ হয়, তখনই ওই যাত্রী কেবিন ক্রুদের বলেন, আমার শরীরটা ভালো লাগছে না। এরপরই আমরা তাকে অক্সিজেনসহ অন্যান্য চিকিৎসা দেই। ওই ফ্লাইটেই ওমানের একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার ছিলেন। তিনিই মূলত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তখনো তার শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল। যাত্রীকে বাঁচানোর জন্য অন্য কোনো দেশে বিমান অবতরণ করানোর কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা ছিল ফ্লাইটটি সিলেট না নিয়ে সরাসরি ঢাকাতেই ল্যান্ড করার।

এর আগ পর্যন্ত যাত্রীর অবস্থা আনকনসাসই ছিল। তখনো মারা গেছে কি না সেটি আমরা জানি না। পরে বিমানকে সিলেটে নামিয়ে দিয়ে আসি। কারণ যাত্রীর বাড়ি সিলেটে। বিমানবন্দরে তাকে নিতে একজন আত্মীয় এসেছিলেন।