খেলাধুলা

এবার তোপের মুখে রবি শাস্ত্রী

দ্বাদশ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ রানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল টিম ইন্ডিয়া। এরপর থেকেই বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

হেড কোচ রবি শাস্ত্রী নিজের দায় এড়িয়ে যেতে পারছেন না। একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে শাস্ত্রীকে। বিরাট কোহলির সঙ্গে বনিবনা না হওয়াতে ২০১৭ সালে কোচের পদ থেকে সরে যান অনিল কুম্বলে। দায়িত্ব দেওয়া হয় রবি শাস্ত্রীকে। তারপর দুই বছর সময় পেয়েও মিডল অর্ডার গুছিয়ে নিতে পারলেন না।

এই দুই বছরে যুবরাজ সিং, মণীশ পান্ডে, অজিঙ্কা রাহানে, সুরেশ রায়না, শ্রেয়স আইয়ার ও অম্বাতি রায়ডুকে মিডল অর্ডারে খেলানো হয়েছে। বাদও দেওয়া হয়েছে। যদিও যুবরাজ ও রায়না নিজেদের সেরা সময় পিছনে ফেলে এসেছেন। যুবরাজ তো অবসরও নিয়ে ফেলেছেন। বাকিদের মধ্যে রায়না ও পান্ডেকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিশ্বকাপের ঠিক একবছর আগে থেকে অম্বাতি রায়ডুকে চার নম্বরে টানা খেলানো হয়েছে। কিন্তু ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।

গত তিন বছরে ভারত বিশ্ব ক্রিকেটে যে দাপট দেখিয়েছে, তার মূল কারণ ধাওয়ান, রোহিত ও কোহলির ফর্ম। সঙ্গে জাসপ্রীত বুমরার মতো বোলার। আবিষ্কার বলতে দুই রিস্ট স্পিনার কুলদীপ ও চাহালকে তুলে আনা। কিন্তু চার ও পাঁচ নম্বর জায়গায় নির্দিষ্ট কাউকে ভাবাই হয়নি। অধিনায়কের আগে বিশ্বাস ছিল ইংল্যান্ডে মিডল অর্ডারে রাহানে ভাল বিকল্প হবেন। কিন্তু ২০১৮ এর শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকেই আশ্চর্যজনকভাবে একদিনের দল থেকে বাদ পড়ে যান রাহানে। বিশ্বকাপের ঠিক একমাস আগে বিজয় শঙ্করকে মিডল অর্ডারে খেলানোর ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। তার উপর তিনি পেস বোলিংটাও করতে পারেন। লিস্ট এ ক্রিকেটে বিজয় শঙ্করের ব্যাটিং গড় মাত্র ৩৬.‌৩২। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক ব্যাটসম্যান রয়েছে। যাদের গড় বিজয়ের থেকে ভাল। তাছাড়া মাত্র ৯টি একদিনের ম্যাচ খেলেই বিজয় সুযোগ পেয়ে যান বিশ্বকাপ দলে। এই ৯টি ম্যাচে বিজয়ের সর্বোচ্চ রান ৪৬। বিশ্বকাপে চোটের জন্য ছিটকে যাওয়ার আগে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেছেন বিজয়। তবে যে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন তাতে বোঝা যায়নি তিনি মিডল অর্ডারে ভরসা দিতে পারবেন।

তরুণ, প্রতিভাবান ঋষভ পন্থ সুযোগ পান ধাওয়ান ছিটকে যাওয়ার পর। বয়স মাত্র ২০। বিশ্বকাপের আগে মাত্র পাঁচটি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচে ঋষভ করেছেন ৩২, ৪৮, ৩২।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে কাঠগড়ায় ভারত কোচ শাস্ত্রী। ধোনির ঠিকঠাক ব্যাটিং অর্ডার তিনি ঠিক করতে পারেননি। প্রশ্ন উঠেছে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কেন চারে নামানো হয়নি ধোনিকে।

এছাড়াও বিদেশে কঠিন পরিস্থিতিতে সুইংয়ের সামনে খেলার অভিজ্ঞতা ভারতীয়রা অর্জন করতে পারেনি। যদিও সুযোগ যথেষ্ট মিলেছে। তাহলে হেড কোচের ভূমিকাটা কী?‌

২০১৫ বিশ্বকাপে টিম ডিরেক্টর ছিলেন শাস্ত্রী। তারপর ২০১৭ থেকে পূর্ণ দায়িত্বে। এত সময় পেলেও শাস্ত্রীকে কিন্তু ব্যর্থই বলতে হবে।


জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি