খুলনা বিভাগীয় সংবাদ

কলকাতায় গাড়িচাপায় নিহত তানিয়ার বাড়িতে শোকের মাতম


জুমবাংলা ডেস্ক : ভারতের কলকাতায় গাড়িচাপায় বাংলাদেশি তরুণী ব্যাংক কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম তানিয়ার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তানিয়ার লা’শ কলকাতা থেকে নিজ বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসাতে পৌঁছলে সেখান এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

স্বজনদের আহাজারিতে উপজেলার বড়কালিয়া গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। যেন থামছেই না তাদের আহাজারি।

রোববার বাদ যোহর তার নিজ বাড়ি খোকসা উপজেলার বেদবাড়িয়া ইউনিয়নের চাঁদট পূর্বপাড়া জামে মসজিদে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তানিয়ার দা’ফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে রোববার সকালে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে স্বজনদের কাছে লা’শ হস্তান্তর করেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

তানিয়ার অকাল মৃ’ত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গেছে গোটা পরিবার। পরিবারের একমাত্র চালিকা শক্তিকে হারিয়ে সবাই এখন দিশেহারা।

প্রিয় মেয়েকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ বাবা আমিরুল ইসলাম ও মা খুশি বেগমের। বাড়িতে থাকা মেয়ের ছবি বুকে নিয়ে কখনও নীরবে চোখের পানি ফেলছেন আমিরুল ইসলাম। আবার কখনও চিৎকার করে আহাজারি করে চলেছেন তিনি।

দুই বোনের মধ্যে ফারহানা ইসলাম তানিয়া বড়। তিনি সিটি ব্যাংক গুলশান শাখার সহকারী ভিপি ছিলেন। চার বছর আগে তিনি সিটি ব্যাংকে জুনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। ঢাকায় মহম্মদপুরে বসবাস করলেও তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসায়।

তানিয়ার বাবা আমিরুল ইসলাম জানান, চিকিৎসার জন্য তানিয়া ঈদের একদিন পরে ১৪ আগস্ট তার আরও দুই সহকর্মীকে নিয়ে কলকাতায় যায়। কলকাতায় ডাক্তার দেখিয়ে ফোনে আমাকে জানায় ডাক্তার বলেছে আপনার লাঙ্কে সামান্য পানি জমেছে। ওষুধ খেলেই ভাল হয়ে যাবে। আব্বু আমি একদিনের ছুটি নিয়ে এসেছি। কিছু মার্কেট করে চলে আসব।

তিনি বলেন, শনিবার ভোর ৫টার দিকে কলকাতা থেকে একজন ফোন করে তানিয়ার মাকে জানান তানিয়া একসিডেন্ট করে মারা গেছে।

নিহতের চাচা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল আকতার জানান, বাবা মা ও একমাত্র ছোট বোনকে নিয়ে ঈদের আগের দিন গ্রামের বাড়ি চাঁদটে আসে তানিয়া। ঈদের একদিন পর বুধবার সকালে চিকিৎসার জন্য বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যায়।

তিনি জানান, শুক্রবার গভীর রাতে খাবার খেতে যাওয়ার আগে পরিবারের লোকদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছিল তানিয়া।

তানিয়ার সহকর্মী হুমায়ুন কবীর জানান, তানিয়ার সঙ্গে আমি অনেক দিন ধরে চাকরি করছি। তানিয়া অনেক বিনয়ী ও ভদ্র মেয়ে। তার মৃ’ত্যুও সংবাদ শুনে চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনি। তানিয়াকে শেষবারের জন্য দেখতে এখানে ছুটে এসেছি।

চাচতো বোন রেভিনা জানান, ও আমাদের অনেক আদরের বোন। ও চলে যাওয়ায় আমরা সবাই ভেঙ্গে পড়েছি।

শুক্রবার মধ্যরাতে কলকাতার শেকসপিয়র সরণি এবং লাউডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যে একজন ফারহানা ইসলাম তানিয়া (২৮)। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতা এসে মারকুইস স্ট্রিটের ভিআইপি হোটেলে উঠেছিলেন।

শুক্রবার রাতে প্রবল বৃষ্টির কবল থেকে বাঁচতে পুলিশের একটি আউট পোস্টে আশ্রয় নেন তারা। রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের দিক থেকে প্রচণ্ড গতিতে আসা একটি জাগুয়ার গাড়ির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মার্সিডিজ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাগুয়ার গাড়িটি মার্সিডিজটিকে নিয়েই ধাক্কা মারে সড়কের পাশে থাকা ওই পুলিশ আউট পোস্টে। এতে চাপা পড়েন সেখানে থাকা তিন বাংলাদেশি।

এ ঘটনায় দায়ী জাগুয়ার গাড়ির মালিক আরসালান পারভেজকে শনিবার গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। তিনিই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তিনি কলকাতার খ্যাতনামা রেস্তোরাঁ আরসালানের মালিক পারভেজ আখতারের ছেলে।


জুমবাংলানিউজ/এসআই