চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংবাদ

কলেজছাত্র ইকরাম হত্যার রহস্য উন্মোচন

জুমবাংলা ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে কলেজ ছাত্র ইকরাম হোসেন (১৬) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। প্রথমে ইকরাম হত্যার ঘটনায় দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো প্রতিবেশী নাজমা আক্তার (৪০)ও তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীন (৫৫)। পরে সরাইল সদর উপজেলার বড্ডাপাড়া গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে ইমরানুল হাসান সাদী (১৯)কেও আটক করে পুলিশ। সাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সোমবার জুডিশিয়াল আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।

ইকরামকে তারা তিনজন খুন করে। ভাগিনা সাদী ইকরামের পা চেপে ধরে। সোহাগ দুই হাত চেপে ধরে রাখে, তখন শিমুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ইকরামের মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা লাশটি বস্তাবন্দি করে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশের হাতে গ্রেফতার নাজমা বেগম ও তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন এ খুনের পরিকল্পনাকারী ছিলেন। তাদেরকে এ হত্যার ঘটনায় মামলায় আসামি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। এ মামলার চিহ্নিত দুই আসামি শিমুল ও সোহাগ পলাতক রয়েছে। এ মামলায় আরো ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। এই ঘটনায় ৫ জনের নাম উলেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার।

উল্লেখ্য, গত রবিবার কালিকচ্ছ বারজিবি পাড়া খালাত বোনের বাড়ির খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করে কলেজ ছাত্র ইকরাম হোসেন (১৬) এর বস্তাবন্দি মরদেহ। ইকরাম তার খালাত বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস পূর্বে ইকরামের খালাতো বোনের মেয়ে সুমাইয়াকে ইভটিজিং করতো প্রতিবেশী মোঃ শিমুল। ইকরাম তাতে বাধা দিয়েছিলো। একটা সময় এই বিষয়ে সুমাইয়ার পরিবার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইসরাত বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করে। তখন তাকে নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে। শিমুল সাজা ভোগ করে এসে ইকরামকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর থেকে ইকরাম কে মেরে ফেলার সুযোগ খুঁজতে শুরু করে শিমুল। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার রহস্য খুঁজতে এটি বেরিয়ে এসেছে। কলেজ ছাত্র ইকরাম হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন বলেন, আটককৃত ইমরানুল হাসান সাদী জুডিশিয়াল আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে দায় স্বীকার করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাজমা বেগম ও তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের ৩ জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের অপর দুই আসামি শিমূল মিয়া ও সোহাগ মিয়া পলাতক রয়েছে। সূত্র : বিডিপ্রতিদিন



জুমবাংলানিউজ/এসআর

সর্বশেষ সংবাদ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ