গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

কালীগঞ্জে বাক প্রতিবন্ধি স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

Dark Mode

  Picture Kaligonj Lipy (3)

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে বাক প্রতিবন্ধি স্ত্রী লিপি বেগমকে (৩৫) হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. মোশারফ হোসেনের (৪২) বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে স্বামী এবং স্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে লাশ নিয়ে আসে এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্ঠা করে। কিন্তু লিপির পরিবারের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে থানায় খবর দেয়। থানার খবর শোনে স্বামী পালিয়ে যায়।

বুধবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদেন্তর জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠয়েছেন।

Picture Kaligonj Lipy (1)

নিহত লিপি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে। অভিযোক্ত স্বমী একই গ্রামের হাসিম উদ্দিনের ছেলে। স্বামী-স্ত্রী তারা সম্পর্কে চাচাত ভাই-বোন হতেন। স্বামী চট্টগ্রামে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। আর ওখানেই প্রথম স্ত্রী লিপিকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। লিপি ও মোশারফের সংসারে এক ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। ছেলের বয়স ১১ বছর, এক মেয়ের বয়স ৬ ও আরেক মেয়ের বয়স দেড় মাস। লিপি ছাড়াও রেহানা বেগম (৩২) নামে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রয়েছে। তিনিও সম্পর্কে মোশারফের চাচাত বোন। তাদের সংসারে রয়েছে তিন ছেলে। বড় ছেলের বয়স ১৫, মেঝ ছেলের বয়স ১৩ ও ছোট ছেলের বয়স ১০ বছর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবেই বাক প্রতিবন্ধি চাচাত বোন লিপির সাথে মোশারফের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লিপিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত সে। এক পর্যায়ে তাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়েও দেওয়া হয়। তার বক্তব্য সে বাক প্রতিবন্ধি স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে পারবে না। এর মধ্যে রেহেনা নামের আরেক চাচাত বোনের সাথে তার সম্পর্ক হয় এবং তাকে বিয়ে করে ফেলে। বিয়ের পর তাকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। সেখানেই ভাড়া বাড়িতে থাকত। এদিকে, লিপির পরিবারের চাপে পূনরায় তাকে মোশারফ ঘরে তুলে নেয়। ১৫ বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে লিপিকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকতে শুরু করে। মঙ্গরবার রাতে লিপির লাশ চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি নিয়ে আসে এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রচার করে। কিন্তু নিহতের শরীরের বিভিন্নস্থানে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে থানায় খবর দেওয়া হয়। কিন্তু থানার কথা শোনে মোশারফ পালিয়ে যায়। পুলিশ নিহতের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন ময়নাতদন্তের জন্য।

Picture Kaligonj Lipy (2)

কালীগঞ্জ থানার অফিসান ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিয়ে পাঠিয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমরা মৃত্যুর কোন কারণ খুঁজে পাইনি। যেহেতু পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ এসেছে, সেহেতু আমরা ঘটনাস্থলের সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি অবগত করব। তবে এ ব্যাপারে মামলা হলে ওই থানাতেই হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগীতা প্রদান করা হবে।





সর্বশেষ সংবাদ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


জনপ্রিয় খবর

Add Comment

Click here to post a comment

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় খবর