লাইফস্টাইল

কুকুর পোষার আগে জেনে নিন কয়েকটি বিষয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক : কুকুর ভালো লাগে না এমন মানুষ খুব কম আছে। ভালো লাগলেও অনেকে নানা চিন্তা ভাবনা থেকে কুকুর পুষতে ভয় পান। এটা ঠিক যেকোনও পোষ্য পোষার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। কিন্তু সেগুলি এমন কিছু আহামরি নয়। তাই যারা চাইছেন তারা নির্দ্বিধায় কুকুর পুষুন। কুকুর পোষার ক্ষেত্রে কী কী নিয়মাবলী মেনে চলবেন সেগুলি রইল এই প্রতিবেদনে।

চাই লাইসেন্স: কুকুর পোষার ক্ষেত্রে লাইসেন্স থাকাটা বাধ্যতামূলক। অনেকেই এটা শুনে আকাশ থেকে পড়বেন। কুকুরের জন্য আবার লাইসেন্স কিসের? কিন্তু ব্রিটিশ আমলে তৈরি কলকাতা পুর আইনে তা পরিস্কার বলা আছে। সেই সময় জলাতঙ্ক ঠেকানোর জন্য কুকুরের লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়টি পুর আইনে ঢুকিয়ে যায় ইংরেজরা। তার পর অনেক পুর এলাকাতেও সারমেয়দের জন্য লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। সচেতনতার অভাবে অনেকেই সেটা জানেন না। তাই কুকুর পোষার আগে লাইসেন্সটি অন্তত নিয়ে রাখবেন।

চিকিৎসা ও অন্যান্য যত্ন: এবার জেনে নেওয়া যাক চিকিৎসার বিষয়টি। জন্মের পর সব কুকুরকে চারটি বুস্টার ভ্যাকসিন এবং পরের বছর থেকে আজীবন প্রতি বছর তিনটি করে ভ্যাকসিন দিতে হয়। পোষ্যকে কী খাবার দেবেন সেটা পশু চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন। তবে এরা ঘরে তৈরি সব ধরনের খাবার খায়। ভাত, রুটি, পাউরুটি, ডাল, তরকারি, সবজি, মাছ, মাংস, বিস্কুট, ফল, মিষ্টি, দুধ দিতে কোনও অসুবিধা নেই। চেষ্টা করবেন মশলাদার ও ঝাল খাবার কম দেওয়ার। আর এখন তো কুকুরদের জন্য নির্দিষ্ট খাবার ও বিস্কুট পাওয়া যায়। সবই মিলিয়ে মিশিয়ে দেবেন।

প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা: এটা অপশনাল। চাইলে পোষ্যর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারেন। ইদানিং অনেকেই এই পথে হাঁটছেন। কুকুর খুব বাধ্য। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘরের টুকিটাকি কাজও সারমেয়কে দিয়ে করানো যেতে পারে। এই যেমন বারান্দা থেকে পেপার আনা, রান্নাঘর থেকে জলের বোতল নিয়ে আসা ইত্যাদি। কুকুরকে নির্দিষ্ট জায়গায় মলমূত্র ত্যাগেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। ফলে মলমূত্র করানোর জন্য আপনাকে সবসময় বাইরে যেতে হবে না।

মন বোঝার চেষ্টা করুন: কোনও পোষ্যই আবেগহীন নয়। কুকুরও ব্যতিক্রম নয়। কুকুর পোষার আগে তাই পেট পেরেন্টিং ধারণা তৈরি করুন। কুকুর পোষা এখন উচ্চবিত্তের শখের বিষয় নয়। মধ্যবিত্ত বাড়িতেও ঢুকে পড়েছে চারপেয়রা। একটা জিনিস মাথায় রাখা দরকার, কুকুর পোষা আর একটা সন্তানের যত্ন নেওয়া, এই দুইয়ের মধ্যে তেমন ফারাক নেই। সময়মতো কুকুরকে খাবার দেওয়া, তাদের বাইরে ঘুরিয়ে নিয়ে আসা এগুলি যেমন আছে তেমন কুকুরের মন বোঝার চেষ্টা করুন। কুকুর মানুষের সঙ্গ পছন্দ করে। তাই চেষ্টা করবেন বাড়তি সময় ওদের সঙ্গে কাটানোর। এতে আপনার মেজাজও ফুরফুরে হয়ে উঠবে। এছাড়া কুকুরকে বাড়ির একটি জায়গায় কখনও বেঁধে রাখা উচিত না। তাকে খোলা স্থানে ছেড়ে দিন। যদি বাড়ির ভেতর খোলা স্থান থাকে, তাহলেই কুকুর কেনা ভালো।



জনপ্রিয় সংবাদ