গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

ঘুমন্ত শিশুকে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করল বাবা

Dark Mode

5630
ছবি : সংগৃহীত
জুমবাংলা ডেস্ক : ১৯ দিনের শিশুটিকে নিয়ে একই বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন তার মা ও নানি। সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখেন, বিছানায় শিশুটি নেই। পরে গোসলখানায় পানিভর্তি বালতির ভেতর পাওয়া যায় শিশুটির মরদেহ।

মা ও নানা-নানির অভিযোগ, ঘুমন্ত শিশুটিকে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছেন তার বাবা।

গতকাল রবিবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামে মর্মন্তুদ এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুটির নাম আবদুল্লাহ আল মাহাদী। তার বাবা অভিযুক্ত বিজয় হাসান ফকির (২৩) পাশের গাজীপুর ইউনিয়নের নগরহাওলা গ্রামের শামসুল হক ফকিরের ছোট ছেলে। ঘটনার পর স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি পিটুনি দিয়ে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

থানাহাজতে আটক বিজয় হাসান দাবি করেন, ‘এটা ষড়যন্ত্র। নিজের সন্তানকে আমি হত্যা করতে পারি না।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিশুটির নানি নাজমা আক্তার বলেন, গত শনিবার রাতে খাওয়ার পর তাঁর মেয়ে নুসরাত জাহান মুন্নী ঘুমিয়ে পড়েন। একই ঘরে শিশু মাহাদীকে ঘুম পাড়িয়ে নাতি ও মেয়ের সঙ্গে একই বিছানায় তিনিও ঘুমিয়ে যান। পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন তাঁর ছোট ছেলে জুবায়ের আল নাফি ও মেয়ের জামাই বিজয় হাসান। গতকাল সকাল ৬টার দিকে তিনিই প্রথম দেখেন তাঁর নাতি বিছানায় নেই। ওই সময় ঘুম থেকে জেগে মুন্নীও তাঁর ছেলের খোঁজ করছিলেন।

নাজমা জানান, তাঁদের চিত্কারে তাঁর স্বামী মোফাজ্জল হোসেন ছুটে এসে খোঁজাখুঁজির পর গোসলখানায় বালতির ভেতর পানির মধ্যে মাহাদীর মরদেহ দেখতে পান। গোসলখানাটি ছিল কক্ষের বাইরে বারান্দায়। সেখানে পানিভর্তি বালতির ভেতর শিশুটির মাথা নিচের দিকে দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছিল।

শিশু মাহাদীর নানা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রায় এক বছর তিন মাস আগে বিজয় হাসানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাঁর মেয়ের। এটি ছিল ছেলে-মেয়ে উভয়ের দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের কয়েক মাস পরই মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করেন বিজয়। মেয়ের সুখের কথা ভেবে এরই মধ্যে মেয়েজামাইকে তিনি একটি মোটরসাইকেল ও নগদ কয়েক লাখ টাকা দিয়েছেন। এর পরও তাঁর (বিজয়) চাহিদা শেষ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বিজয় মাদকাসক্ত। অন্য এক মেয়ের সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে তাঁর।

মাহাদীর নানি নাজমা আক্তার জানান, সর্বশেষ কয়েক মাস আগে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন বিজয়। টাকা না পেয়ে তাঁর মেয়েকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তাঁর মেয়ে। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে সাধারণ ডায়েরি নম্বর জানাতে পারেননি তিনি।

নাজমা আক্তারের অভিযোগ, গত ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে বিজয় হাসান তাঁর মেয়েকে আবার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, গর্ভের শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাকে হত্যা করবেন তিনি। এতে তাঁরা ভয় পেয়ে ঈদের পরদিনই তাঁদের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, গত ৮ অক্টোবর পাশের মাওনা এলাকার বেসরকারি একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলেশিশুর জন্ম দেন তাঁর মেয়ে নুসরাত জাহান মুন্নী।

মোফাজ্জল হোসেন জানান, গত ৮-১০ দিন ধরে বিজয় হাসান তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা চালান। সপ্তাহখানেক ধরে তাঁদের বাড়িই থাকতেন তিনি।

মা ও নানা-নানি তিনজনেরই অভিযোগ, তাঁরা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর শিশুটিকে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে গোসলখানায় পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছেন বিজয় হাসান।

থানাহাজতে আটক বিজয় হাসান দাবি করেন, ‘বিয়ের পর থেকে আমার শ্বশুর আমাকে পছন্দ করতেন না। আমার শ্বশুরের কাছ থেকে কখনোই আমি যৌতুক নেওয়া তো দূরের কথা, দাবিও করিনি।’ তিনি আরো দাবি করেন, তিনি এখনো ছাত্র। রাজধানীর উত্তরা এমিনেন্স কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখায় পড়াশোনা করছেন তিনি।

বিজয় হাসান মাদকাসক্ত কি না জানতে চাইলে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, ‘বিজয় হাসান মাদকাসক্ত নয়। ছেলেটা খুবই ভালো বলেই আমি জানি।’

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল শাকিব জানান, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজয় হাসান দাবি করেছেন, সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তাঁর স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে মারধর করেছেন। তখনো তিনি বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি। পুলিশ যাওয়ার পর ঘটনাটি জেনেছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে বিজয় হাসান দাবি করেন, তাঁর শ্বশুর মোফাজ্জল হোসেন শিশুটিকে হত্যা করে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা মুন্নী রাত ১০টায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সন্দ্বিগ্ধ আসামি করা হয়েছে বিজয় হাসান ফকিরকে।

এসআই নাজমুল শাকিব বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে আজ (গতকাল) দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’

শ্রীপুর থানার ওসি মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘খুবই মর্মস্পর্শী ঘটনা এটি। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনাটি সাজানো কি না, তা-ও পুলিশের মাথায় রয়েছে।’ সূত্র : কালেরকণ্ঠ



জুমবাংলানিউজ/এসআর

সর্বশেষ সংবাদ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


জনপ্রিয় খবর

Add Comment

Click here to post a comment

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় খবর