গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

জান্নাত কি নুসরাতের পথে? গলায় ১৪ সেলাই থাকলেও পুলিশ এজাহারে চামড়া ছিলেছে!

জুমবাংলা ডেস্ক : গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে গত ২৫জুলাই বখাটে এক ছেলের ছুরিকাঘাতে আহত হন মাদ্রাসা ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জান্নাত (১৬)। স্থানীয় লোকজন আহতবস্থায় জান্নাতকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহম্মদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত জান্নাতের গলায় সেলাই লাগে ১৪টি।

মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত বখাটে রেদওয়ান ইসলাম (১৬) জান্নাতকে বিরক্ত করতো বলে জানান স্থানীয়রা। তবে রেদওয়ান প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান বিধায় এলাকার মানুষ তাকে কিছু বলতো না। তবে মেয়েকে উক্তত্ত করার বিষয়টি রেদওয়ানের বাবা একই মাদ্রাসার সহকারী অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম মাস্টারকে জানালে বিষয়টি পারিবারিকভাবে দেখবেন বলে জানিয়ে, জান্নাতকে মাদ্রাসায় পাঠাতে নিষেধ করে দেন জান্নাতের বাবা-মাকে। তবে কিছুদিন পর থেকে ঘটনা স্বাভাবিক হয়েছে ভেবে মেয়েকে মাদ্রাসায় যেতে দেন জান্নাতের অভিভাবকরা। যার ফলে সেদিনের সে ঘটনা।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মোবারক হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়ে ছিলেন, অভিযুক্ত রেদওয়ানও দশম শ্রেনীর ছাত্র। দীর্ঘদিন ধরে রেদওয়ান তার ওই সহপাঠীকে উক্তত্ব করতো। এ বিষয়ে তাকে সর্তক করা এবং পারিবারিকভাবে শাসন করা হয়। এ নিয়ে ছাত্রীটি কিছুদিন মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

জানাযায়, ঘটনার দিন ২৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় মাদ্রাসা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে রওনা হন জান্নাত। ৯টা ২৫ মিনিটে শ্রীপুর থানাধীন পাচলটিয়া বড় ব্রীজের সামনে পৌছা মাত্র রেদওয়ানসহ অজ্ঞাত তিনজন তার পথ রোধ করে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে ঐ শিক্ষার্থী রাজি না হলে বখাটে রেদওয়ান তার সাথে থাকা চাকু দিয়ে জান্নাতের গলায় আঘাত করে মটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। এতে সে গুরুত্বর আহত হয়। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ‍শ্রীপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরতরা উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহম্মদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উঠে পরে লাগেন বখাটে রেদওয়ানের বাবা রফিকুল ইসলাম। সেই সাথে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য প্রভাবশালীদের দিয়ে মেয়ের মায়ের সাথে কথা বলেন।

জান্নাতের মা মামলার বাদী রোকসানা (৪০) জানান, দুপুর আনুমানিক ২টায় শ্রীপুর মডেল থানায় থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে প্রথমে মামলা নিতে চায়নি পুলিশ। পরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর রাত আনুমানিক ৮: ৩০ মিনিটে মামলা নেয়া হয়। যা ৩৪১/৩২৪/৩০৭ /৫০৬ পেনাল কোডে তা রেকর্ড করা হয়।

রোকসানা জানান, তবে মামলা কিভাবে এজাহারভুক্ত হয়েছে তা জানতে পারেন কোর্টে তার পক্ষের আইনজীবির মাধ্যমে। যা তার মেয়ের বর্তমান শারিরিক অবস্থার সাথে কোন মিল নেই। মামলার এজাহারে যে ধারায় নথিভুক্ত হয়েছে তাতে গলায় সেলাইতো দূরের কথা কেটে যাওয়ার বিষয়টিও আসেনি। আঘাতে গলার নিচে ছিলে যাওয়ার মত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

আহত জান্নাতের বিষয়ে গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহম্মদ মেডিকেল কলেজের আবাসিক ডাক্তার প্রণয় ভূষণের কাছে জানতে চাইলে জানান, সেলাই লেগেছিল কিনা আমি বলতে পারছি না খাতা দেখে বলতে হবে।

চিকিৎসা পত্রে ৫ দিন পরে সেলাই কাটতে আসবেন আর কোন সমস্যা হলে জরুরী বিভাগে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়ার কথা লিখা আছে বলে তাকে জানানো হলে তিনি খাতা দেখে জানাবেন বলে জানান।

হত দরিদ্র জান্নাতের বাবা জানান, আমার টাকা পয়সা নেই তাই আমি সঠিক বিচারও পাবনা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশে এত গণমাধ্যম কিন্তু আমার মেয়ের পাশে কাউকে পেলাম না। হাসপাতালের চিকিৎসার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনদিন বিশেষ কেয়ারে রাখার পর হাসপাতালের ৭ তলায় আমার মেয়েকে স্থানান্তর করার কথা থাকলেও হঠাৎ করেই আমার মেয়েকে রিলিজ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আর্থিক কারণে মেয়ের গলার ড্রেসিং করতে আমার কষ্ট হচ্ছে। তিনি সঠিক তদন্ত করে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এ মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ‍শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত বলেন, বিষয়টি আমি জানি। নেক্সট বলেন আপনি কি জানতে চান? মেয়েটির গলায় ১৪টি ‍সেলায় দেয়া হলো কিন্তু মামলাটি নথি ভুক্ত হলো, ৩৪১/৩২৪/৩০৭ ধারায়। এর কারণ কি? উত্তরে ওসি বলেন, আপনি কি পত্রিকায় নিউজ করবেন? করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যা দেখেছেন রিপোর্টে তো তাই বলবে। আপনি ১৪টা ‍সেলাই দেখলে পত্রিকায় সেভাবেই লিখেন। আমার অসুবিধা নেই।

তিনি বলেন, আমি নিজে মেয়েটির গলা না দেখলেও ডাক্তারকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জেনেছি। ডাক্তারতো আমাকে ১৪টি সেলাইয়ের বিষয়ে কিছুই জানালেন না।

এদিকে হতদরিদ্র এ মায়ের পক্ষে মামলা চালানো সম্ভব না জেনে তার পাশে দাঁড়ান গাজীপুর বারের আইনজীবি হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, মানবিক কারণেই আমি মামলাটি হাতে নিয়েছি।

সেদিনের ঘটনায় জান্নাত যদি ফেনীর সোনাগাজীর সেই নুসরাতের মতো এই পৃথিবীকে বিদায় জানাতো তাহলে হয়তো কাপতো বাংলাদেশ, আর বিচার হতো বখাটে রেদওয়ানের। আর সেই সাথে মামলার এজাহারে যারা ঘটনাটি ভিন্নক্ষাতে প্রভাবিত করেছে তাদেরও বিচার হতো। সূত্র : সময়ের কণ্ঠস্বর।

জুমবাংলানিউজ/এসআর


আপনি আরও যা পড়তে পারেন