Views: 8

ইতিহাস ট্র্যাভেল

জামালপুর জামে মসজিদ: প্রবেশমুখের তোরণ ও মিনারের নকশায় মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

জুমবাংলা ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ের ৫টি উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা অনেক পুরাকীর্তির মধ্যে জামালপুর জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ অন্যতম। এর নির্মাণশৈলী ও অপূর্ব কারুকাজ মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে জামালপুর জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ। এর প্রবেশমুখে রয়েছে একটি বড় তোরণ। ১৮৬৭ সালে নির্মিত এই মসজিদের দৃষ্টিনন্দন শিল্পকলা নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। তিনটি বড় আকৃতির গম্বুজ ও ৮০টি মিনার রয়েছে মসজিদে। সুন্দর কারুকাজ আর নকশা খচিত প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ৩৫ ফুট।

নান্দনিক কারুকাজ মসজিদের দেয়ালে। ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। শুধু নান্দনিকতাই নয়, এসব স্থাপনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস- ঐতিহ্য।

মসজিদের উপরে বড় আকৃতির তিনটি গম্বুজ রয়েছে । গম্বুজের শীর্ষদেশ কাচ পাথরের কারুকাজ করা আছে । এই মসজিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর মিনারগুলোর নকশা । মসজিদের ছাদে মোট আটাশটি মিনার আছে । একেকটি মিনারের উচ্চতা প্রায় ৩৫ ফুট এবং প্রতিটিতে নানান ধরনের নকশা করা রয়েছে ।

এত মিনার কোন মসজিদে দেখতে পাওয়া বিরল ব্যাপার । মসজিদটি চারটি অংশে ভাগ করা । সে অংশগুলো হলো মূল কক্ষ, মূল কক্ষের সঙ্গে ছাদসহ বারান্দা, ছাদবিহীন বারান্দা এবং ছাদবিহীন বারান্দাটি অর্ধ প্রাচীরে বেষ্টিত হয়ে পূর্বাংশে মাঝখানে চার থামের উপর ছাদ বিশিষ্ট মূল দরজা । খোলা বারান্দার প্রাচীরে এবং মূল দরজার ছাদে ছোট ছোট মিনারের নানান নকশা রয়েছে ।

কথিত আছে যে, তাজপুর পরগনার জমিদারবাড়ি থেকে রওশন আলী নামক এক ব্যক্তি এ অঞ্চলে আসেন এবং তাঁরই কোন বংশধর পরবর্তীতে এখানে জমিদারী পান । ১৮৬২ সালে এই জমিদারবাড়ির ভিত্তি স্থাপন করেন । বাড়িটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ১৮৬৭ সালে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ।