জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ স্লাইডার

জুমবাংলায় সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি ঘর পেলেন সেই মমেনা

অনিল চন্দ্র রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: অনলাইন নিউজ পোর্টাল জুমবাংলা ডট কম-এ সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি ঘর পেলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সেই মমেনা বেওয়া (৬৫)। তিনি উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের নন্দিরকুটি গ্রামের মৃত কপুর উদ্দিনের স্ত্রী।

ফুলবাড়ীতে তার জন্য নির্মাণাধীন সরকারি ঘরে মমেনা বেওয়া (৬৫)। ছবি: জুমবাংলা

আজ বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মমেনা বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মাণ শ্রমিকরা মমেনার বাড়িতে ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরকারি ঘর পাওয়ার খবর শোনে আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন মমেনা বেগম। অশ্রুশিক্ত হয়ে মমেনা বেওয়া জুমবাংলাকে জানান, বয়স্ক ভাতা পাবো কখনও ভাবিনি। কয়েকদিন আগে সেটাও পেলাম। এখন সরকারি ঘর পাবো এটা স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। সাংবাদিক বাবারা দূতের মতো এসে আমার ভাঙা ঘরের ছবি দিয়ে খবর ছাপায়। আমার খবর ছেপে দেওয়ায় আমি বয়স্ক ভাতা পেয়েছি। এখন শুনছি আমি সরকারি ঘরও পাবো। ঘর পাওয়ার খবর শুনে আমার পরাণটা জুড়িয়ে গেল!

তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহোদয় এই অসহায় মানুষটার জন্য ভাতা ও সরকারি ঘর পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ তাদের সবসময় মঙ্গল করুক।

গত ১৯ আগস্ট অনলাইন নিউজ পোর্টাল জুমবাংলা  পলিথিনের ঘরে থেকেও মমেনার ভাগ্যে জোটেনি সরকারি ঘর শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে ইউএনও অফিস ও উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে তার খোঁজ খবর নিয়ে বয়স্ক ভাতা করেন। এই খবরটি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকার বরাদ্দে সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশ মোতাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার, নির্বাহী অফিসার মোছা. মাছুমা আরেফিন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকায় বরাদ্দে ঘর নির্মাণের কাজ ২ সেপ্টেম্বর শুরু করেছেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাছুমা আরেফিন জুমবাংলাকে জানান, অসহায় মমেনা বেওয়ার রিপোর্টটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে তার খোঁজ খবর নিতে অফিসের লোকজনকে পাঠানো হয়েছে। তাকে প্রথমে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। এখন তাকে সরকারি ঘরও দেওয়া হল। ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হলে উদ্বোধনের মাধ্যমে মমেনা বেওয়ার হাতে নতুন ঘরের চাবি তোলে দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাছুমা আরেফিন জুমবাংলাকে জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মমেনা বেওয়াকে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকার বরাদ্দে সরকারি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘর নির্মাণের কাজও চলছে।


জুমবাংলানিউজ/একেএ

Add Comment

Click here to post a comment