Views: 23

ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

নতুন করে বিয়ের মাধ্যমে স্বামীর ঘরে ফিরলেন ২ সন্তানের মা

bride-handজুমবাংলা ডেস্ক : মাদারীপুর মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণার হস্তক্ষেপে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুই সন্তানের মা জুলিয়া আক্তার (২২)।

রোববার রাতে নতুন করে কাবিন রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিয়ে দিয়ে সন্তানসহ জুলিয়াকে স্বামী বাদল হাওলাদারের (২৬) হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

মহিলাবিষয়ক অধিদফতর, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কুলচর গ্রামের দিদার সরদারের মেয়ে জুলিয়া আক্তারের সঙ্গে মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের মৃত মাজেদ হাওলাদারের ছেলে বাদল হাওলাদারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

বিয়ের আনুষ্ঠানিক কাজ করেন মস্তফাপুরের কাজী মাওলানা মো. মান্নানের সহযোগী মো. মোস্তফা। ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হলেও বিয়ের সময় জুলিয়ার বয়স ১৮ বছরের কম থাকায় রেজিস্ট্রার কাবিননামায় কাজী কোনো স্বাক্ষর না দিয়েই বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন।

এদিকে জুলিয়া শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পর কয়েক মাস ভালো থাকলেও পরে যৌতুকের টাকাসহ নানা কারণে তার স্বামী বাদল হাওলাদার ও তার পরিবারের লোকজন মারধরসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। পরে তার দুটি সন্তানের জন্ম হলে নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জুলিয়াকে ঘরে আটকে রেখে দিনের পর দিন মারধর করে।

প্রায় দুই মাস আগে ঘরে আটকে নির্যাতনের খবর পেয়ে মাদারীপুরের মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণা সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় জুলিয়াকে উদ্ধার করে। এই নির্যাতনের কারণে জুলিয়া আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য তিনি কাজীর কাছে কাবিননামা আনতে যান। এ সময় তিনি জানতে পারেন তার কাবিননামায় কাজীর কোনো স্বাক্ষর নেই।

এরপর থেকে তার স্বামী বাদল হাওলাদার তার স্ত্রী জুলিয়াকে বলেন- মামলা করে কি করবি, বিয়ের তো কোনো প্রমাণ নেই। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আরও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। মাদারীপুর জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় বেশ কয়েকবার পরিবারের লোকজন নিয়ে সালিশ করেও কোনো সমাধান হয়নি।

পরে রোববার রাতে জুলিয়া ও বাদলের আবার নতুনভাবে সারে ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে কাবিন রেজিস্ট্রার করে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করি। বাদল তাকে আর কোনো নির্যাতন করবে না বলে আমাদের কাছে অঙ্গীকার করে। পরে রাতেই জুলিয়াকে দুই সন্তানসহ স্বামী বাদল হাওলাদার তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়।