গসিপ বিনোদন

পাপের শহরে অবৈধ শুধু পতিতাবৃত্তি

3fgসারা বিশ্বে এটি প্রমোদ নগরী হিসেবে বিখ্যাত। মনোরঞ্জনের রাজধানীও বলা হয়! সব ধরনের পাপ কর্ম শহরটিতে হরহামেশাই হয়ে থাকে। জুয়ার ক্যাসিনো, পতিতাবৃত্তি ও অর্থ-পাচারের জন্য এটাকে পাপের শহর বলা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে পর্যটকরা এখানে শুধু মনোরঞ্জনের জন্যই আসেন প্রতি বছর। সব সময়ে তাই ভিড় লেগেই থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের একটি শহর লাস ভেগাস। এই শহরেই চলে সব ধরনের পাপ কর্ম।

জুয়া খেলার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় ক্যাসিনোসহ সারা বিশ্বের বৃহত্তম বিলাসবহুল হোটেলের অধিকাংশই সেখানে অবস্থিত। অর্থ-পাচারের রাজধানী হিসেবেও খ্যাতির চূড়ায় রয়েছে শহরটি। তবে মজার বিষয় হলো, বহু ধর্ম, জাতিগোষ্ঠীর বসবাসে সমৃদ্ধ নিউইয়র্ক নগরীতে পতিতাবৃত্তি এখনো আইনত নিষিদ্ধ। অর্থের বিনিময়ে যৌনকর্মের জন্য জেল জরিমানার দণ্ড রয়েছে। এ আইনের কড়াকড়ি আরোপ থাকার ফলে নিউইয়র্কে যৌনকর্মীদের গোপন আস্তানায় প্রায়ই ধরপাকড় হয়। যৌন অপরাধের জন্য আইন লঙ্ঘনকারীদের প্রায়ই দণ্ড পেতে হয়। যদিও পতিতাবৃত্তি বৈধ করার আন্দোলনে সোচ্চার পতিতারা। তবে এখনো আশার মুখ দেখেনি তারা।

পাপের শহরের আসল রূপ দেখা যায় রাতে। প্রায় সাড়ে ৬ লাখ জনসংখ্যার এ শহর যেন কখনো রাতে ঘুমায় না। সন্ধ্যা নামতেই ভেগাসের চেহারা বদলাতে থাকে। রকমারী আলোয় হোটেলগুলো আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রাস্তার দু’পাশে বড় বড় বাতিস্তম্ভগুলো নানা রকম বিজ্ঞাপনের মোড়কে চমকাতে থাকে। মাইলের পর মাইল চোখ জুড়ানো আলোর বন্যা। সারা বছরটাই ঝলমলে থাকে শহরটি! প্রতিটি হোটেলের সামনেই নানা রকম আলোর বাহার। কোনো কোনো হোটেলের সামনে বিশাল জলাশয়ের মধ্যে আবার কৃত্রিম ঝর্ণা! তার ওপর বিভিন্ন রঙের আলোর বিচ্ছুরণে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়! কোনো হোটেলে রয়েছে সুদৃশ্য লেজার রশ্মির শো। কোথাও বা বাচ্চাদের জন্য আছে নানা রকমের রাইড। বিভিন্ন হোটেলে আবার সার্কাস দেখানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

আলোয় মোড়া শহর। আনন্দ আর হুল্লোড়। কিন্তু তার মাঝে কি চাপা পড়ে থাকে অনেক পাপ, অনেক কান্না? লাস ভেগাসের তেমনি কয়েকটি ‘অন্য’ কাহিনী তুলে দরা হলো। যেগুলো বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। আর সেগুলো শুনিয়েছেন সেখানকার বিভিন্ন হোটেল কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী এবং গৃহ-পরিচারিকারা। তারা বলছেন, শুধু আলো আর আলো নয়, আঁধার রয়েছে অনেক। তাই তো ভেগাসের আর এক নাম পাপের শহর। সেখান থেকেই জানা গিয়েছে লাস ভেগাসের ‘অন্য’ ছবি। তারই কিছু নমুনা রইলো এখানে। সরাসরি মন্তব্যগুলো তুলে দেয়া হলো-

‘একজন এসে বললেন, আপনি আমাদের হোটেলে চলে আসুন এবং আমার স্ত্রীর সঙ্গে যৌনতা করুন। আমি অস্বীকার করেছি।’ একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে কিছু ব্যবহার করা অন্তর্বাস বিক্রি করতে চাইলেন। তার কাছে অনেক ব্যবহার করা প্যান্ট, থং, ব্রেসিয়ার রয়েছে।’ লাস ভেগাস জুয়া খেলার জন্যও বিখ্যাত। আর সেই খেলায় জেতার জন্য অনেক নীচেও নামতে দেখা যায় অনেককে। আর পয়সা কামানোর জন্য কী কী হয় জানেন? একজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে তার অণ্ডকোষে লাথি মারতে বলেছিলেন, বিনিময়ে চেয়েছিলেন মাত্র ১০ ডলার। হোটেলকর্মীদের অনেকেরই অভিজ্ঞতা এমন যে বহু লোক হোটেলে নিজেদের ঘরে নয়, হলঘরেই যৌনতায় মেতে যান। তবে হলঘরের যৌনতায় সম্পূর্ণ নগ্নতা থাকে না। যতটা সম্ভব পোশাক গায়ে থাকে। একই ছবি দেখা যায় হোটেলের সুইমিং পুলে।

এক জন সাফাইকর্মীর বক্তব্য, প্রতিদিনই এত এত ব্যবহার করা কন্ডোম, মদের বোতল, নোংরা জামা কাপড়, সিরিঞ্জ আর বমি পরিষ্কার করতে করতে ক্লান্ত লাগে। অনেকেরই বক্তব্য, ঘরের ভিতরে ঢুকেই দেখা যায় গোটা ঘর অশ্লীলভাবে নোংরা। কোথাও কোথাও আবার ঘরে এবং দেওয়ালেও খাবার দাবার এবং অন্যান্য আবর্জনা ছড়ানো। কোকেনের ছড়াছড়ি। তবে এরই মধ্যে কখনো কখনো ডলার কুড়িয়ে পাওয়া যায়। ময়লা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ডলার পরিষ্কার করে পকেটে পুরতে যে ভাল লাগে সেটা জানাতেও ভোলেননি তারা।

১৯০৫ সালে এই শহরের জন্ম। তবে নগরের মর্যাদা পায় ১৯১১তে। পূর্বে এই শহরটি একটি মরুভূমি ছিল। নিউইয়র্ক ও শিকাগোর মাফিয়ারা যুক্তরাষ্ট্রের মহাবী মরুভূমিতে তাদের কালো টাকা সাদা করার জন্য এবং ব্যবসা করার জন্য আসে। এই শহরে কোনো আইন না থাকায় তারা তাদের অপরাধমূলক কাজগুলো এখানে করতে পারে যেগুলো সমগ্র আমেরিকায় নিষিদ্ধ। এই শহরটি অপরাধীদের জন্য তৃণভূমি হিসেবে গড়ে উঠেছে । লাস ভেগাস একটি স্প্যানিস ভাষা যার অর্থ তৃণভূমি।

এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদনের তীর্থ হিসেবেও লাস ভেগাস বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকেরা শুধু মনোরঞ্জনের জন্যই এখানে আসেন। জুয়া, পতিতাবৃত্তি বা অর্থ পাচারের মতো বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিউইয়র্ক ও শিকাগোর মাফিয়ারা আমেরিকার মোহাভি মরুভূমিতে গড়ে তোলে এই পাপের শহর। আজকে আমরা এই গল্পে জানব আমেরিকার ২৮ তম জনবহুল নগরী লাস ভেগাস সম্পর্কে। স্প্যানিশ ভাষায় লাস ভেগাস অর্থ তৃণভূমি। শুরুর দিকে এই শহর যেন অপরাধীদের তৃণভূমিতে পরিণত হয়েছিল।

১৯০৫ সালে লাস ভেগাস শহরের জন্ম হলেও চল্লিশের দশক পর্যন্ত এর অগ্রগতি ছিল খুবই সামান্য। বিগত শতকের পঞ্চাশের দশকে লাস ভেগাস শহর রাতারাতি বদলে যায়। সে সময় শিকাগো মাফিয়ারা অবৈধ পথে কামানো তাদের বিপুল অর্থ লুকানোর জন্য নতুন কোনো পথ খুঁজছিলো। তখন তাদের নজরে আসে যুক্তরাষ্ট্রের মোহাভি মরুভূমিতে উদীয়মান এক শহর লাস ভেগাস। বলতে গেলে তখন লাসভেগাসের কোনো নিয়ম-কানুন ছিল না। তাই যে যেভাবে খুশি সেভাবে টাকা রোজগার শুরু করে।

তখন লাস ভেগাসের স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের পরিবর্তন সাদরে গ্রহণ করে। কারণ এতে করে তাদের নিজেদের ব্যবসা ও দিন দিন বাড়তে থাকে। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে শিকাগো মাফিয়ারা তাদের কালো টাকা সাদা করার চেষ্টায় লাস ভেগাসের চেহারাই বদলে দেয়। শিকাগো মাফিয়ারা লাস ভেগাসের ব্যবসায় যাওয়ার আগেই সেখানে গড়ে তুলেছিলো নিউইয়র্কের মাফিয়া গোষ্ঠী। সে সময় নিউইয়র্ক মাফিয়ারা ভেগাসে এমন সব ব্যবসা করছিলো যা পুরো যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলেও লাস ভেগাসে তা বৈধতা পেতে থাকে। কারণ সেখানে কোনো আইন কানুন ছিলো না।

নিউইয়র্ক মাফিয়াদের হোটেল ও ক্যাসিনো ব্যবসা বছরে প্রায় ৫ কোটি ডলার মুনাফা করত। নিউইয়ার্ক ও শিকাগো মাফিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণে দুই অপরাধী চক্র একসঙ্গে লাস ভেগাসে তাদের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে শুরু করে। ফলে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ লাস ভেগাসে এসে বৈধ সম্পত্তিতে পরিণত হয়। এর ফলে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের রাজধানীতে পরিণত হয় লাস ভেগাস। নিউইয়র্ক ও শিকাগো মাফিয়ারা একসঙ্গে ব্যবসা শুরু করার দুই বছরের মধ্যে তারা লাস ভেগাসে বহু বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।

চার কিলোমিটার দীর্ঘ লেভাডা মরুভূমিতে চমকপ্রদ বিভিন্ন ভবন, হোটেল ও ক্যাসিনো গড়ে তুলে তারা যে শহরের জন্ম দেয় সেটি আজকে লাস ভেগাস স্ট্রিপ নামে পরিচিত। ১৯৫০ এর দশকের শেষের দিকে প্রায় ৮০ লাখেরও বেশি লোক মরুভূমিতে গড়ে ওঠা নতুন এই শহরে ঘুরতে আসে। এ বিপুল পরিমাণে পর্যটক লাস ভেগাসের ক্যাসিনোতে প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে। তখন মাফিয়ারা এসব ক্যাসিনোতে জুয়ার পাশাপাশি সব ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা চালু করে।

লোকসমাগম আরও বাড়াতে তারা তৎকালীন সময়ের বড় বড় হলিউড তারকাদের আমন্ত্রণ জানায় এসব ক্যাসিনোগুলোতে। এভাবে লাস ভেগাস একসময় পরিণত হয় হলিউড তারকাদের মিলন মেলায়। এসবের আড়ালে তৎকালীন দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় দুই মাফিয়া দল নতুন নতুন অর্থ পাচারের উপায় বের করতে থাকে। একসময় লাস ভেগাসের জুয়ার ব্যবসা তৎকালীন সময়ের খনিজ তেল শিল্পের চেয়েও অধিক মুনাফা অর্জন করতে শুরু করে।

পাপের এই নগরীর সৌন্দর্য কিন্তু চোখ ধাঁধানো। চোখ মেললেই দেখা মিলে পাহাড়ের। শীতকালে বরফ। অপূর্ব সে দৃশ্য। ৩৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের শহরটিতে লোকসংখ্যা অনেক কম। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ২৫টি হোটেলের ১৮টিই এখানে। হাজার হাজার মানুষ মত্ত হয় জুয়ায়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা সত্য ক্যাসিনোগুলোতে নেই কোনো ঘড়ি। আলো যেন না আসতে পারে সেটা নিশ্চিত করা হয় ভালোমতোই। জুয়ার টেবিলে বসে দিন-রাতের হিসাব যেন না থাকে তার জন্যই এতো আয়োজন। মদ অবশ্য ফ্রি।

জুয়ার শহরে মাফিয়া ডনেরাও আস্তানা গড়েছেন ভালো মতো। একটা কথা না বললেই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের শুরুটা এই ক্যাসিনো ব্যবসা থেকেই। হোটেলগুলোর একেকটার আয়তন অনেকটা ফুটবল স্টেডিয়ামের মতো। ১০তলা একটি হোটেল ঘুরতে সময় লেগে যায় দুই-তিন ঘণ্টা। কয়েকশ’ হোটেল আছে এই শহরে। আর একেকটি হোটেলে কী নেই সেটা বলা কঠিন। রাতের বেলায় বসে জমজমাট ড্যান্স পার্টি। রাত যত গভীর হয় বাড়তে থাকে লাস্যময়ী নারীদের আনাগোনা। শুরু হয় আলো আঁধারের খেলা।

রাস্তায় একটু হাটলেই পাবেন লিফলেট, কার্ড। ছবিসহ নারীদের ফোন নাম্বার দেয়া। ডাকলেই অপ্সরারা চলে আসবেন রুমে। আরেকটি জিনিস জেনে রাখা ভালো, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের হোটেলগুলোর তুলনায় লাস ভেগাসের হোটেলগুলোর ভাড়া অত্যন্ত কম। কারণ ভাড়াতো আর তাদের আয়ের প্রধান উৎস নয়। প্রতিবছর প্রায় চার কোটিরও বেশি লোক এখানে ভ্রমণের জন্য আসে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের অবৈধ টাকায় মরুভূমির মাঝখানে গড়ে তোলা এই পাপের শহর বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধনকুবের দের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।



জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


Add Comment

Click here to post a comment