ক্রিকেট (Cricket) খেলাধুলা

বাংলাদেশকে সহজে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশের দেয়া ২৬২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ফিফটি হাঁকান জ্যাসওয়াল, দিব্বাংশ, অধিনায়ক প্রিয়াম গ্রার্গ ও ধ্রুব জুরেল। এই চার ব্যাটসম্যানের অনবদ্য ফিফটিতে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল। বাংলাদেশের যুবাদের ৬ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যাম্পিয়ন হল ভারত।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন ভারতের অধিনায়ক প্রিয়াম গ্রার্গ। তার ৬৬ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছয়ের মার। এছাড়া ধ্রুব জুরেল অপরাজিত ৫৮, দিব্বাংশ সাক্সেনা ৫৫ ও ইয়াসাভি জ্যাসওয়াল ৫০ রান করে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ম্যাচের শুরুটা দারুণ করেন ভারতের দুই ওপেনার। ১০৪ রানের জুটিতে জয়ের ভীত পায় দলটি। তবে তাইগার লেগ স্পিনার রাকিবুল হাসান ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর আঘাতে ১২৬ রানেই তৃতীয় উইকেট হারায় ভারত যুবারা। টাইগার বোলারদের সাফল্য বলতে ওই পর্যন্তই।

এর পরের গল্প শুধুই ভারতীয় যুবাদের। চতুর্থ উইকেটে ১০৯ রানের বড় জুটি গড়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন অধিনায়ক প্রিয়াম গ্রার্গ ও ধ্রুব জুরেল। এসময় দুজনেই তুলে নেন নিজেদের ফিফটি। পরে ৭৩ রান করে প্রিয়াম শরিফুলের শিকার হয়ে ফিরলেও দলকে নির্বিঘ্নে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে মাঠ ছাড়েন উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ধ্রুব জুরেল। অপরাজিত থাকেন ৫৯ রানে। তার ৭৩ বলের ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কার মার।

ফলে ৮ বল বাকি থাকতেই ছয় উইকেটের বড় হার দেখে বাংলাদেশের যুবারা। পারল না ঈদের আনন্দে উল্লসিত হতে।

এর আগে মাহমুদুল হাসান জয়ের অনবদ্য শতকে ভারতকে ২৬২ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল। রোববার যুব ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৬১ রান করে অলআউট হয় টাইগার যুবারা।

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় এ টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে ৮টি করে ম্যাচ খেলেছে প্রত্যেক দল। ৪ জয়, ১ পরাজয় ও ৩ পরিত্যক্ত ম্যাচে মোট ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকেই ফাইনাল খেলছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের বিপক্ষে খেলা চার ম্যাচের মধ্যে পরিত্যক্ত হয় ২টি। বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে উভয় দলই জিতেছে একটি করে। তাই আজকের ফাইনালটি আক্ষরিক অর্থেই টুর্নামেন্টের সেরা দল বাছাইয়ের লড়াই।

হোভের কাউন্টি গ্রাউন্ডের এ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল টাইগার যুবারা। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৮.৪ ওভারে ৫৮ রান যোগ করেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন।

দ্বিতীয় উইকেটে মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে আরও ৬৫ রান যোগ করেন পারভেজ ইমন। দারুণ ব্যাট করা পারভেজ আউট হন ৬০ রান করে। ৬৪ বলের ইনিংসে ৭ চার ও ৩ ছক্কা হাঁকান তিনি।

এরপর জয় ছাড়া ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেনি আর কেউই। যে কারণে একপর্যায়ে ২৫০ রানই মনে হচ্ছিল দুরূহ ব্যাপার। তবে ষষ্ঠ উইকেটে শামীম হোসেনের সঙ্গে জয় ৬৪ রানের জুটিতে সে লক্ষ্যে অনেকটা এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শামীম ৩২ রান করে আউট হলে ব্যাট হাতে একাই লড়ে যান জয়। ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত খেলে যান এই ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান।

শেষ ওভারে পরপর দুই বলে ৪ ও ৬ হাঁকিয়ে নিজের সেঞ্চুরিও পূরণ করেন তিনি। তবে শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে ৯ চার ও ১ ছয়ের মারে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদুল। যার ফলে ২৬১ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল।

এদিন ভারতের হয়ে কার্তিক ত্যাগি ও সুশান্ত মিশরা দুটি করে এবং বিষ্ণু ও দলনায়ক হেগডে ১টি করে উইকেট লাভ করেন। এ ম্যাচে জয়সহ বাংলাদেশের তিনজন ব্যাটসম্যান রান আউটের শিকার হন।



জুমবাংলানিউজ/এসআর

সর্বশেষ সংবাদ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ