আন্তর্জাতিক ওপার বাংলা

ভালুক শিকার করে লিঙ্গ ভক্ষণ করাই ছিলো তার নেশা

Dark Mode

181200Untitled-1আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পুলিশ এক কুখ্যাত সন্দেহভাজন পশু চোরকে গ্রেপ্তার করতে সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে। ধৃত ব্যক্তি বিপন্ন ভারতীয় শ্লথ প্রজাতির ভালুক অবৈধভাবে শিকার করতো এবং তার যৌনাঙ্গ খেত। তার বক্তব্য ছিল এই ভালুক ‘খুবই মহার্ঘ শিকার’। খবর বিবিসি বাংলা’র।

বেশ কয়েকবছর ধরে ইয়ারলিন নামের ওই ব্যক্তি পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।

ভালুক চোরা-শিকারের এই ঘটনা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ প্রথম সজাগ হয় যখন ভারতের এক জাতীয় পার্কে একটি মৃত ভালুকের লিঙ্গবিহীন দেহ পাওয়া যায়।

‘ইয়ারলিন পার্ধি-বেহেলিয়া নামে এক যাযাবর উপজাতি গোষ্ঠির যারা বিশ্বাস করে প্রাণীর লিঙ্গ খেলে যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়,’ জানাচ্ছেন মধ্যপ্রদেশের বনবিভাগের কর্মকর্তা রীতেশ সিরোথিয়া।

তবে তিনি বলেছেন ইয়ারলিনকে ১৯শে অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়েছে পশ্চিম ভারতের গুজরাট রাজ্য থেকে। তিনি আরো জানিয়েছেন আটক ব্যক্তি মধ্য ভারতে অবৈধ বাঘ শিকারি চক্রের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

মধ্য ও পশ্চিম ভারতে বাঘসহ বিপন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী চোরা-শিকার এবং এসব প্রাণীর দেহাংশ নিয়ে ব্যবসার বেশ কয়েকটি মামলার সঙ্গে ইয়ারলিন জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পুলিশের চোখ এড়াতে ওই ব্যক্তি অনেকগুলো ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করতো।

ইয়ারলিনের বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এবং সে অথবা তার কোন আইনজীবী এখনও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি।

বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

‘আমরা তাকে খুঁজে বের করার এবং ধরার জন্য একটা বিশেষ সেল গঠন করেছিলাম। ছয় বছর ধরে তোকে আমরা ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি,’ জানান সিরোথিয়া, যিনি বনবিভাগের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের প্রধান।

মধ্য প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জঙ্গলে মূলত এই পার্ধি-বেহেলিয়া উপজাতির মানুষের বসবাস। তারা মূলত শিকার করে জীবনধারণ করে।

বন্যপ্রাণী শিকার ভারতে অবৈধ, এমনকী আদিবাসী বা উপজাতি গোষ্ঠির মানুষদের জন্যও। যদিও প্রথাগত জীবনধারণের তাগিদে বা তাদের বন্য আচার পালনের জন্য গোপনে শিকার অব্যাহত রয়েছে।

ভারত সরকার বলছে তারা বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল আদিবাসী গোষ্ঠিগুলোর জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করছে। কিন্তু এইসব সম্প্রদায়ের মানুষ এখনও সমাজের প্রান্তিক পর্যায়েই রয়ে গেছে এবং তাদের জীবনযাপনের ধারা বদলায়নি।

ইয়ারলিনকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয় ২০১৩ সালে। পুলিশ ওই সময় কান্হা জাতীয় পার্কে দুটি শ্লথ বা কালো ভালুকের লিঙ্গবিহীন মৃতদেহ খুঁজে পাবার পর তাকে আটক করে। ভালুক দুটির দেহ থেকে যৌনাঙ্গ ছাড়া পিত্তথলিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এক বছর কারাগারে রাখার পর তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ভালুকের শরীরের পিত্ত যা যকৃৎ থেকে তৈরি হয় তা সঞ্চিত থাকে তার পিত্তথলিতে। শত শত বছর ধরে ভালুকের পিত্ত চীনের প্রথাগত ওষুধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং অবৈধ আন্তর্জাতিক বাজারে ভালুকের পিত্তথলি বা পিত্তাশয় চড়া দামে বিক্রি হয়।

সিরোথিয়া বলেছেন মহারাষ্ট্র এবং মধ্য প্রদেশ রাজ্যে ইয়ারলিনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে।

বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে এই মামলাগুলি দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে বাঘ চোরা শিকারের অভিযোগ রয়েছে।



জুমবাংলানিউজ/এসআর

সর্বশেষ সংবাদ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


জনপ্রিয় খবর

Add Comment

Click here to post a comment

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় খবর