অর্থনীতি-ব্যবসা

রাজধানীতে সবজির বাজারে আগুন


অর্থনীতি ডেস্ক : বছরজুড়ে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে সবজি। এখনো উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের সবজি। ফলে বলা যায় সবজিই কেড়ে নিয়েছে কাঁচাবাজারের স্বস্তি। শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলার সরবরাহ বাড়লেও রাজধানীর কাঁচাবাজারে তার খুব একটা প্রভাব পড়ছে না। একমাত্র কাঁচা পেঁপের কেজি ৫০ টাকার নিচে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু শিমের দাম কিছুটা কমেছে। তবে এখনো এ সবজির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের আগাম সবজি শিম, কপি, মুলার সরবরাহ বেড়েছে। তবে এসব সবজির ভরা মৌসুম এখন শুরু হয়নি। যে কারণে দাম একটু চড়া। তবে শিগগির শীতের আগাম সবজিসহ সব ধরনের সবজির দাম কমতে পারে। বিশেষ করে চলতি মাসের শেষের দিক থেকে সবজির দাম কমতে শুরু করবে। শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। গত সপ্তাহেও সবজিটি একই দামে বিক্রি হয়।

শিমের পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলাও। আগের সপ্তাহের মতো ছোট আকারের ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা পিস। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি।

শীতের আগাম সবজির সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ, টমেটো, করলা, গাজর, ঝিঙে, বরবটি, বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, উসি, ধুন্দুলসহ সব ধরনের সবজি। ছোট আকারের লাউ আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা পিস।

পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। করলার ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, ধুন্দল ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁকরোল। এ সবজিগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। চড়া দামের এ বাজারে কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া। পেঁপে আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা কেজি। আর মিষ্টি কুমড়ার ফালি পাওয়া যাচ্ছে ১৫-২০ টাকার মধ্যে।

সবজির দামের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম বাড়েনি, আবার কমেনি। তবে আশা করছি শিগগিরই দাম কমবে। তবে টানা বৃষ্টি হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তখন সবজির দাম না কমে উল্টো বাড়তে পারে।

এদিকে কাঁচাবাজারে মাথা ব্যাথার আরো কারণ তিনটি পণ্য পেঁয়াজ, রসুন ও আদা নিয়ে। বাজারে এখন পেঁয়াজের কেজি ৫০-৫৫ টাকা। ঈদুল আজহার আগেও যা ৪০ টাকার নিচে ছিল। চীনা রসুন সাধারণত ৮০-১২০ টাকার মধ্যে থাকে। সেটা এখন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। ১০০ টাকা কেজির আশপাশের দামে আদা কিনতে অভ্যস্ত মানুষকে এখন দাম দিতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫০ টাকার বেশি।

এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ নয়, রসুন-আদার বাজারের এই অবস্থা প্রায় চার মাস ধরে। কখনো কেজিতে ১০-২০ টাকা কমে। খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ার আগেই দাম আবার বেড়ে যায়। সামনে উল্লেখযোগ্য হারে দাম কমবে, এমন আশাও দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারা বলছেন, সেই যে রসুন-আদার দাম বাড়ল, আর তো কমে না। এরপর বাড়ল পেঁয়াজের দাম। মসলা কিনতেই এখন সবচেয়ে বেশি চাপ।

দেশের আদা ও রসুনের বাজার অনেকটা চীনের ওপর নির্ভরশীল। চীনে দাম বেশ চড়া। আমদানিকারকরা বলছেন, সেখানে এবার উৎপাদন কম হয়েছে। এ কারণে সব দেশেই রসুন ও আদার দাম বেশি। দেশে এ দুটি পণ্য উৎপাদন হয় চাহিদার খুব সামান্য অংশ। তাই চীনা রসুনের সঙ্গে দেশি রসুনের দামও বেড়ে গেছে। অপরদিকে রাজধানীর বাজারে গত এক সপ্তাহে পণ্যের দামে তেমন কোনো হেরফের হয়নি। চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম একই আছে।

দাম অপরিবর্তিত রয়েছে মুরগির। সাদা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকা। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকা কেজি। আর লাল লেয়ার মুরগি আগের মত ২০০-২১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা। ডিমের ডজন গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা।


জুমবাংলানিউজ/এসআই

Add Comment

Click here to post a comment