খেলাধুলা

‘রোহিত শর্মার কানের পাশে কষে একটা চড় মেরেছিলাম’

একটা সময় তার ক্যারিয়ারের আলো আবছা হয়ে গিয়েছিল, সেই রোহিত শর্মাকে ছাড়া এখন ভারতের ওপেনিং জুটির কথা ভাবাই যায় না। চলতি বিশ্বকাপে দল বিদায় নিলেও রোহিত মেঘের উপর দিয়েই হেটেছেন।

টুর্নামেন্টে ৪টি সেঞ্চুরি করা হয়ে গেছে ‘হিটম্যান’-এর। রোহিতের এই ব্যাপক পরিবর্তনের কারণ কী? এক সময়ে তো তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের মূলস্রোত থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। ক্রিকেট থেকে মন চলে যাচ্ছিল। সেই রোহিতই দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছেন ভারতীয় ক্রিকেটে।

রোহিতের ছোটবেলার কোচ দীনেশ লাড ছাত্রের বিধ্বংসী ফর্ম দেখে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘রোহিত নিজেকে এখন পুরোদস্তুর বদলে ফেলেছে। ১০-১৫ ওভার খেলে দিতে পারলে ও বড় ইনিংস খেলবেই।’

ছাত্রের আমূল পরিবর্তনের রহস্য ফাঁস করে দীনেশ বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত খুবই খারাপ সময় গেছে রোহিতের। ও তখন ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। কয়েকটা সিরিজে ভালো পারফর্ম করতে পারেনি। তার উপরে ২০১১ বিশ্বকাপ দলে জায়গা পায়নি। বিরাট কোহলি ঢুকে গেল বিশ্বকাপ দলে। মাঠের বাইরে থেকে রোহিতকে বসে দেখতে হলো ভারতের বিশ্বকাপ জয়। এটা প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়েছিল রোহিতকে।’

সেই সময়ে ছাত্রকে দীনেশ বুঝিয়েছিলেন, ‘ক্রিকেটের জন্যই আজ তোর যত নাম ডাক। সেই ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাচ্ছিস কেন?’ এর পরেই বদলের হাওয়া রোহিতের ক্রিকেট জীবনে। প্রচণ্ড পরিশ্রমে নিজেকে ডুবিয়ে দেন ভারতের ওয়ানডে ওপেনার।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেলার সময় শচীন টেন্ডুলকারের সংস্পর্শে আসেন। অনেক কিছু শিখেছেন মাস্টার ব্লাস্টারের কাছ থেকে। তার উপরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নেতৃত্ব পাওয়ার পরে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে এখন বদলে গেছে রোহিত। ভুল শট খেলে উইকেট ছুড়ে দেওয়ার জন্য একদিন গুরুর কাছে মার পর্যন্ত হজম করতে হয়েছিল রোহিতকে। সাধারণত কোনো ছাত্রের গায়ে হাত তোলেন না দীনেশ।

দীনেশ বলেন, ‘মুম্বাইয়ের ক্রিকেটাঙ্গনে প্রচলিত রয়েছে, উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসা একেবারেই চলবে না। ভালো ডেলিভারিতে আউট হলে অন্য কথা। কিন্তু, খারাপ বলে আউট হওয়া মহা অপরাধ। রোহিত তখন স্কুলের ছাত্র। ১১-১২ বছর বয়স হবে। একটা ম্যাচে নিজের উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলো। ম্যাচটা ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। তার দলও হারল। রোহিতের আউট হওয়ার ধরন দেখে আমি নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি। রোহিতের কানের পাশে কষিয়ে একটা চড় মেরেছিলাম।’


জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি