বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

শিগগিরই আসছে ‘কৃত্রিম মাতৃগর্ভ’

432বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী এখনো নবজাতক শিশু মৃ’ত্যুর অন্যতম বড় কারণ অপরিণত শিশু জন্ম। তবে নেদারল্যান্ডসের একদল বিজ্ঞানী বলছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে তারা কৃত্রিম মাতৃগর্ভ তৈরি করতে সক্ষম হবেন। খবর বিবিসি বাংলার।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এই কৃত্রিম মাতৃগর্ভের মাধ্যমে প্রিম্যাচিউরড বেবি অর্থাৎ মাতৃগর্ভে ৩৭ সপ্তাহ কাটানোর আগেই জন্ম নেয়া শিশুদের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে।

বিজ্ঞানীরা জানান, একটা প্লাস্টিকের ব্যাগের মতো দেখতে এই কৃত্রিম জরায়ুর ভেতরে থাকবে অপরিণত শিশুটি, তার সাথে জুড়ে দেয়া পাইপ দিয়ে তার জন্য আসবে রক্ত ও অন্যান্য তরল। ঠিক মায়ের গর্ভের মতোই পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে সেখানে।

নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্সিমা মেডিকেল সেন্টারে এই মুহূর্তে এই কৃত্রিম মাতৃগর্ভ তৈরির কাজ চলছে, যা প্রধানত খুবই অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়া শিশুদের কথা মাথায় রেখে করা হচ্ছে।

লিসা ম্যান্ডিমেকার কৃত্রিম মাতৃগর্ভের নকশা তৈরি করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে পাঁচটি বড় বড় বেলুন বানানো হয়েছে। এই বেলুনগুলোর মধ্যে শিশুরা মাতৃগর্ভে যে তরলের মধ্যে সাঁতার কাটে, তার ব্যবস্থা করা হবে। আর বিভিন্ন পাইপের মাধ্যমে সেখানে তরল ও রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা হবে।

লিসা আরো বলেছেন, প্রতিটি বেলুন তৈরি করা হবে একটি শিশু মাতৃগর্ভে সর্বশেষ যে ওজনে রয়েছে, তার দ্বিগুণ আকৃতিতে, যাতে শিশুটির চলাফেরা মাতৃগর্ভের মতই স্বাভাবিক থাকে।

এই ল্যাবের গাইনি চিকিৎসক গিড ওয়েই জানিয়েছেন, কৃত্রিম মাতৃগর্ভের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা তরলে পূর্ণ থাকবে, যেখানে একটি ইনকিউবেটর থাকে বাতাসে পূর্ণ। অপরিণত অবস্থায় জন্মানো শিশুকে ইনকিউবেটরে রাখা হয়, যা আসলে ঐ শিশুটির জন্য একটি বৈরি অবস্থা, কারণ ইনকিউবেটরের বাতাস শিশুর ফুসফুসের ক্ষতি করে। তার বদলে এখন অপরিণত শিশু যারা খুব ছোট্ট আকৃতিতে থাকে, তাদের কৃত্রিম মাতৃগর্ভে ঢুকিয়ে দেয়া হবে।

ওই অবস্থায় চার সপ্তাহ থাকার পরে, শিশুটিকে বের করা হবে। নতুন করে ভূমিষ্ঠ হবে সে। আর এভাবেই বাঁচানো যাবে লক্ষ প্রাণ।

এখনো প্রতিবছর বিশ্বে দেড় কোটির বেশি শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়, যার অর্ধেকের বেশি শিশু মারা যায়।

তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এর ফলে আগামী দিনে নারীরা সন্তান ধারণকালীন জটিলতা এড়ানোর জন্য প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।



জুমবাংলানিউজ/এসআর

সর্বশেষ সংবাদ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


Add Comment

Click here to post a comment