Views: 15

বিভাগীয় সংবাদ সিলেট

শিশু তুহিন হত্যা : ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে বাবা

Boshir
আদালত প্রাঙ্গনে নিহত শিশু তুহিনের বাবা আবদুল বছির। ছবি : সংগৃহীত
জুমবাংলা ডেস্ক : সুনামগঞ্জে পাঁচ বছরের শিশু তুহিন মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তার বাবা আবদুল বছিরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তুহিনের মা মনিরা বেগমের দায়ের করা মামলায় বাবা বছিরসহ তিনজনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত সোমবার সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ।

পরে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক শ্যাম কান্ত সিনহা তুহিনের বাবা বছিরকে পাঁচ দিনের ও তুহিনের চাচা আবদুল মছব্বির ও প্রতিবেশী জমসের আলীকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।

মছব্বির ও জমসের আলীকে তিনদিনের রিমান্ড শেষে গত বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই মামলায় তুহিনের বাবা আবদুল বছিরকে পাঁচ দিনের ও তুহিনের চাচা আবদুল মছব্বির ও প্রতিবেশী জমসের আলীকে রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত সবাইকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে গত ১৩ অক্টোবর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় শিশু তুহিনকে। ১৪ অক্টোবর সোমবার সকালে গ্রাম থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের আবদুল বছির মিয়ার ছেলে। হত্যাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু তুহিনের কান, গলা ও গোপনাঙ্গ কেটে পাশবিক কায়দায় হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। শিশুটির পেটে বিদ্ধ ছিল দুটি ছুরি।

এ ঘটনায় ১৪ অক্টোবর শিশু তুহিনের মা মনিরা বেগম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তার দায়ের করা মামলায় গত ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, তিন চাচা আবদুল মছব্বির, জমসেদ আলী ও নাসির মিয়া এবং চাচাতো ভাই শাহরিয়ারকে প্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। ওই দিনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তুহিনের চাচা নাসির মিয়া ও চাচাতো ভাই মো. শাহরিয়ার।

পরে তুহিনের বাবাসহ বাকি তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ বলছে, গ্রামে জমিজমা, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অন্য পক্ষের সঙ্গে বাছিরের পরিবারের বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি একাধিক মামলা রয়েছে। এর জেরেই প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তুহিনকে তার পরিবারের লোকজনই হত্যা করেছে।