আন্তর্জাতিক জাতীয় রাজনীতি

শেখ হাসিনা পরিবর্তনের দিশারী এক বিশ্বনেতা : রুশ স্কলার

রুশজুমবাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসাধারণ রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলীর অধিকারী এক সাহসী নারী হিসেবে অভিহিত করে সফররত রাশিয়ান স্কলার প্রফেসর ভিতালি নমকিন আজ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেইসব বিশ্বনেতাদের অন্যতম, যারা বিশ্ব বদলে দিচ্ছেন। খবর বাসসের।

তিনি রবিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আপনাদের প্রধানমন্ত্রী একজন সাহসী নারী, যার আছে তার পরিবারের বিয়োগান্তক ইতিহাস… তিনি আপনাদের দেশের স্থপতির কন্যা। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা। তিনি দারুণ সফল।’

তিন শ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাশিয়ান একাডেমি অব সাইন্সেসের (আরএএস) অধীন ইনস্টিটিউট অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ভি নমকিন সম্প্রতি আরএএস কেনো রুশ, বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় শেখ হাসিনার ওপর একটি বই প্রকাশ করেছে তা বর্ণনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন। বইটি প্রফেসর ভিতালি নমকিন ও শেখ হাসিনার একটি কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।

আরএএস গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতাদের তুলে ধরতে সংস্থার একটি প্রকল্পের আওতায় বইটি প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিলো যেসব বিশ্বনেতা বিশ্বকে বদলে দিচ্ছেন, তাদের তুলে ধরা।’

প্রফেসর নমকিন ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের রুশ অনুবাদ করেছেন। এছাড়া আরএএস ‘শেখ মুজিবুর রহমান অ্যান্ড বার্থ অব বাংলাদেশ’ নামে আপর একটি বই প্রকাশ করেছে। এটি লিখেছেন ফেলিক্স ইউরলভ। এতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রাক্কালে বাংলাদেশের ঘটনাবলী ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বর্ণনা করা হয়েছে। নমকিন এই বইটিও রুশ ভাষায় অনুবাদ করেছেন।

প্রফেসর নমকিন রবিবার সকালে বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অলেক্সান্দার ইগনাতভকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বই তিনটির কপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন।

এক ব্রিফিং-এ ভিতালি নমকিন জানান, এসব বই প্রকাশের কারণ খুবই সুনির্দিষ্ট। কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক প্লেয়ার, বিশেষ করে দক্ষিন এশিয়ায়। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করেছি, রাশিয়ার নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে এই দেশ এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার অভিন্ন ঐতিহ্য সম্পর্কে আরো বেশি জানার সুযোগ করে দেয়া দরকার।’

‘কনভারসেশন অব প্রফেসর ড. ভি নমকিন উইথ শেখ হাসিনা’ বইয়ে নমকিন বলেন, শেখ হাসিনা আধুনিক বাংলাদেশের প্রধান বিষয় তাঁর পিতা, স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশে সরকারের চ্যালেঞ্জসমূহ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভূখন্ড নিয়ে বিরোধ, জাতিগত সংঘাত বিষয়ে তার মতামত দেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়াদি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমাধান করার অকাক্সক্ষা প্রকাশ করেন।

কথোপকথনে রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা স্থান পায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের মতো আধুনিক বিশ্বের প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো উঠে আসে।

বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. এম শহিদুল্লাহ সিকদার এবং অরএমএম পাওয়ার এন্ড এনার্জির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।



জুমবাংলানিউজ/এইচএম




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


Add Comment

Click here to post a comment