অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় স্লাইডার

‘সই করা ফাইলের ৬০ ভাগই বিদেশ ভ্রমণের’

জুমবাংলা ডেস্ক : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘আমার সই করা ফাইলের ৬০ ভাগই বিদেশ ভ্রমণের। স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে উৎকর্ষ সাধন না হলেও ৭-১০ দিনের প্রশিক্ষণে আগ্রহ বেশি জ্বালানি খাতের কমকর্তাদের।’ অপ্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণে কমকর্তাদের বাড়াবাড়ি রকমের আগ্রহ নিয়ে এভাবেই সমালোচনা করেন তিনি।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই বলে আসছি প্রতিটি প্রশিক্ষণ থেকে দেশে ফিরে আসার পরে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দিতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ তা করেননি। যখন আমি দেখি তিন-চার মাসের ট্রেনিং নিতে কমকর্তারা দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তখন মনে করি কমকর্তা দক্ষ হয়ে ফিরে আসবেন।’

একই বিষয়ে জ্বালানি সচিব আবু হেনা রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘দেশে প্রশিক্ষণের কথা বললে কেউ আসতে চান না। বিদেশি প্রশিক্ষণের প্রতি এত আগ্রহ কেন?’

বিপিসির জিএম আবু হানিফ বলেন, ‘একতরফাভাবে পেট্রোবাংলার কমকর্তাদের ট্রেনিং করতে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। বিপিসির কমকর্তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তাদের দক্ষতা বাড়ছে না।’

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট করেছে। এজন্য সরকার জমি দিয়েছে। কেন আপনারা সে ধরনের কাজ করতে পারছেন না? ভবিষ্যতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। এখনই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো কীভাবে পরিচালনা করতে হবে। বিপিসিরও তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট টু, সাগরে পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে, কিন্তু সেগুলো পরিচালনার জন্য আপনারা কি টিম ট্রেইনিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন? যদি এখনও না করা হয়, তাহলে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাড়ে চার মিলিয়ন পাউন্ডে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র কিনেছিলেন। আমরা এরপর আর তেমন সাহসী উদ্যোগ নিতে পারিনি। জ্বালানি খাতের সিদ্ধান্তহীনতার জন্য দুর্যোগ নেমে এসেছিল। ২০০৯ সালে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি খাতকে জ্বালানি খাতে যুক্ত করেছেন। এতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করা। এজন্য যা যা করা উচিত আপনারা করুন, মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।’

জ্বালানি সচিব সেমিনারে বলেন, ‘দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা গ্যাস সংযোগ দেবো না। একইসঙ্গে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আমরা জ্বালানি অপচয় রোধে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন স্রেডার সদস্য সিদ্দিক জোবায়ের, সিনিয়র সাংবাদিক মোল্লাহ আমজাদ।

জুমবাংলানিউজ/পিএম


আপনি আরও যা পড়তে পারেন