বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সমুদ্রের তলদেশে ভিনগ্রহের প্রাণীদের যান (ভিডিওসহ)

Dark Mode

UFO20191017084910বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : জল এবং স্থল পৃথিবীর এমন দুইটি অংশ যার উপর সমস্ত প্রাণীজগৎ নির্ভরশীল। মানুষসহ অসংখ্য পশুপাখি পৃথিবীর স্থলভাগে বসবাস করে এবং হাজারো জানা-অজানা প্রাণীর বাস জলে। বিজ্ঞানীদের ধারণা পৃথিবীর মোট প্রাণীর ৮০ ভাগেরও বেশি অংশের বসবাস সমুদ্রের গভীরে। যার মধ্যে আমরা কেবলমাত্র ১০ ভাগ প্রাণী সম্পর্কে এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি।

পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন শত শত ডুবুরি নতুন প্রজাতির প্রাণী, ডুবে যাওয়া নৌকা এবং অজানা সব রহস্যের সন্ধানে সমুদ্রের তলদেশে চষে বেড়ায়। সমুদ্র তার পেটের ভেতর কত রহস্য যে লুকিয়ে রেখেছে তা আমাদের ধারণারও বাইরে।

তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে সমুদ্র তার পেটের ভেতর এমন অনেক কিছুই লুকিয়ে রেখেছে যার সন্ধান পেলে মানুষ হতবাক হয়ে যাবে এবং নতুন এক দিগন্তের সূচনা হবে।

সম্প্রতি বাল্টিক সাগরের তলদেশে এক অদ্ভুত ও অসাধারণ জিনিসের সন্ধান পাওয়া গেছে। ইউএফও (ভিনগ্রহের প্রাণীদের যান) আকৃতির এই অদ্ভুত জিনিসটার একদম কাছাকাছি যাওয়া এখনও সম্ভব হয়নি। একটু পরিষ্কার করে বললে, এই জিনিসটাই মানুষকে তার কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছে না। গবেষকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক আশ্চর্য তথ্য, আজব এই জিনিসটা এমন এক ধাতু দিয়ে তৈরি যার অস্তিত্ব পৃথিবীতে নেই। আরো অবাক করার বিষয় হলো, এই জিনিসের কাছাকাছি যাওয়ার সাথে সাথে গবেষণার যন্ত্রপাতি কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

কাহিনির শুরু ২০১১ সালে, যখন ওশান-এক্স নামক এক ডুবুরি দল বাল্টিক সাগরে অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তাদের চোখ সোনার ডিসপ্লে প্যানেলে আটকে যায়। সোনার প্যানেলে তারা সমুদ্রের তলদেশে ডিম্বাকৃতির এক অদ্ভুত জিনিস দেখতে পান। এর ব্যাস ছিল প্রায় ৬০ মিটার, পরিধি ছিল প্রায় ৩০০ মিটার এবং এর উচ্চতা ছিল প্রায় ৮ মিটার। সমুদ্রের ৯০ মিটার গভীরে ডুবে থাকা এই অদ্ভুত জিনিসটিকে প্রথম দেখায় হলিউড সায়েন্স ফিকশন সিনেমায় দেখানো কোনো ইউএফও’র মতোই মনে হয়েছিল। কিন্তু ওশান-এক্সটিমকে কিছুক্ষণের মধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে একটা বড়সড় ধাক্কা খেতে হয়। সোনার প্যানেলে আজব এই বস্তুটি দেখার পরপরই তাদের নৌকায় রাখা সমস্ত ইলেক্ট্রিক যন্ত্রগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তারপর ডুবুরি দল সমুদ্রের নিচে এই জিনিসের একদম কাছাকাছি যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। সব অদ্ভুত নতুন খবরের মতো করে এই খবরটিও খুব দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে যায়।

অনেকেই ওশান-এক্সকে সাধুবাদ জানায় এমন অদ্ভুত জিনিস খুঁজে বের করার জন্য। অনেকে আবার ওশান-এক্স টিমের তীব্র সমালোচনা করে। তারা বলতে শুরু করে, ওশান-এক্স টিম আলোচনায় থাকার জন্য বা সস্তা পাবলিসিটির জন্যই এমন একটা ঘটনা বানিয়ে বানিয়ে লোককে শোনাচ্ছে।

কিন্তু প্রকৃত অনুসন্ধান না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। তাই এই আজব বস্তুটি থেকে একটি নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পাঠানো হয়। গবেষণা শেষে জানা যায় যে, এই নমুনায় প্রাপ্ত লিমোনাইড এবং গোয়াথাইডের মতো ধাতু আমাদের পৃথিবীতে কোথাও নেই। এছাড়া কৃত্রিমভাবে এটি তৈরি করাও সম্ভব নয়। কিন্তু এই ব্যাপারটি নিয়েও গবেষকদের মধ্যে মতভেদ ছিল। গবেষকদের একাংশের দাবি, আমাদের পৃথিবী লিমোনাইড এবং গোয়াথাইড তৈরি করতে সক্ষম।

আজব এই বস্তুটিকে নিয়ে অনেকেই অনেক মতামত দিতে শুরু করে। অনেকেই দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন যে, এটা অবশ্যই একটা ইউএফও এবং ভিনগ্রহ থেকে পৃথিবীতে আসার পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই হয়তো সমুদ্রের মধ্যে ডুবে গেছে। অনেকেই আবার মনে করেন এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি এবং আমেরিকার তৈরি কোনো সাবমেরিনের অংশবিশেষ। বাল্টিক সাগরের তলদেশে লুকিয়ে থাকা এই অদ্ভুত বস্তুটি বেশ কিছু রহস্যময় প্রশ্ন নিজের পেটে লুকিয়ে রেখেছে।

তবে ওশান-এক্স এর মুখ্য দুই ডুবুরি বলেন, এটা যদি সাধারণ কোনো বস্তুই হতো তাহলে এর কাছাকাছি যেতেই ইলেক্ট্রিক ডিভাইস কাজ করা বন্ধ করে দেয় কেন? এর পেছনে আপনি কি যুক্তি দেখাবেন?

এছাড়া এর উপর আঁকা কিছু নকশা এবং এর নির্মাণশৈলী পৃথিবীর সাথে কোনোভাবেই মিলে না।

নানা তর্কে-বিতর্কে দীর্ঘ সাত-আট বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এই জিনিসের রহস্য উদ্ঘাটন করা এখনও সম্ভব হয়নি। তবে অনুসন্ধানের সাথে সম্পৃক্ত গবেষকরা জানিয়েছেন খুব দ্রুতই তারা এই রহস্যের কিনারা করে ফেলবেন।



জুমবাংলানিউজ/এসআর

সর্বশেষ সংবাদ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


জনপ্রিয় খবর

Add Comment

Click here to post a comment

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় খবর