মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

সাকিবকে আইন ভঙ্গ করে সাজা দিয়েছে আইসিসি

Dark Mode

shakib-tuhinজুমবাংলা ডেস্ক : সাকিবকে বেআইনিভাবে সাজা দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. তুহিন মালিক। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘আইসিসি নিজের আইন ভঙ্গ করে সাকিবকে বেআইনিভাবে সাজা দিলো’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তুহিন মালিক লিখেন, আইসিসি এর অ্যান্টি করাপশন কোড অনুযায়ী সাকিব আল হাসানকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইসিসি। সাকিবকে সাজা প্রদানের সিদ্ধান্তের ১১নং অনুচ্ছেদে অপরাধ সংগঠনের ৪টি ঘটনা ও ৩টি দিন-তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। যথা-

১। ২০১৭ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি আগারওয়ালের সাথে সাকিবের বেশকিছু হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ চালাচালি হয়।

২। ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি আগারওয়াল সাকিবকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠায়।

৩। ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি আগারওয়াল আবার সাকিবকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠায়।

৪। ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সাকিব আইপিএল ম্যাচ খেলার দিন আগারওয়াল হোয়াটসঅ্যাপে সাকিবকে মেসেজ করে।

আইসিসি সাকিবের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি ও ২৭ আগস্ট সাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আইসিসি সাকিবের বিরুদ্ধে আইসিসি অ্যান্টি করাপশন কোড এর অনুচ্ছেদ ২.৪.৪ অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ৩টি ঘটনায় চার্জ আনে। এই তিনটি অপরাধ সংঘঠনের (সংঘটন) সময় ও তারিখ আইসিসির সিদ্ধান্তের ১৮ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে এভাবে- ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ এবং ২৬ এপ্রিল ২০১৮

আইসিসি যে আইসিসি এর অ্যান্টি করাপশন কোড এর যে বিধান লঙ্ঘনের জন্য সাকিবকে সাজা দিয়েছে তা কার্যকর হয়েছে ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে। যা আইসিসির অ্যান্টি করাপশন কোড এর ১১.৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- অর্থাৎ এই কোড কার্যকরের তারিখের পূর্বের কোন ঘটনার ক্ষেত্রে ‘পেছনের দিকের কার্যকর’ প্রয়োগ করা যাবে না। তাই এই কোড কার্যকরের তারিখের পূর্বের ঘটনার জন্য বর্তমান কোডের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাকিবকে সাজা প্রদান করা যাবে না। সাকিবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ঘটনার তারিখগুলো হলো, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ এবং ২৬ এপ্রিল ২০১৮।

অর্থাৎ দুটি ঘটনা আইসিসির অ্যান্টি করাপশন কোড এর কার্যকরের অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির আগের। ফলে উক্ত দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে এই কোড অনুযায়ী শাস্তি প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনী। কারণ, ১৯ জানুয়ারি ও ২৩ জানুয়ারির ঘটনার সময় ২০১৮ সালের আইসিসির অ্যান্টি করাপশন কোড এর অনুচ্ছেদ ২.৪.৪ এবং ৬.২ এর কোন অস্তিত্বই ছিল না। ফলে উক্ত দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে আইসিসির অ্যান্টি করাপশন কোড এর অনুচ্ছেদ ২.৪.৪ লঙ্ঘণের অপরাধে ৬.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাকিবকে সাজা প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনী। যদিও আইসিসির ২০১৪ সালের একটি আইসিসির অ্যান্টি করাপশন কোড ছিল। তবে উক্ত কোডের অধীনেও কিন্তু সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যেহেতু বর্তমান কোড অনুযায়ী কেবল ২৬ এপ্রিলের ঘটনা প্রযোজ্য তাই এই কোডের ৬.২ অনুযায়ী খুব বেশি হলে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা হতে পারত।

তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাকিব আপিল কিংবা রিভিউ কোনটাই করতে পারবেন না।

লেখক : ড. তুহিন মালিক



জুমবাংলানিউজ/এসআর

সর্বশেষ সংবাদ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


জনপ্রিয় খবর

Add Comment

Click here to post a comment

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় খবর