অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

২ কারণে কমে গেছে গাড়ি বেচা-কেনা

বিজনেস ডেস্ক : শুল্ক বৃদ্ধি ও রাইড শেয়ারিংয়ের প্রভাবে গাড়ির চাহিদায় এখন কার্যত ভাটা পড়েছে। মোংলা বন্দরে গাড়ির বাজার নিয়ে শঙ্কায় আমদানীকারকরা। ক্রমান্বয়ে মোংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে পুরোনো গাড়ি আমদানি কমছে। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুরোনো গাড়ি আমদানিতে শুল্কহারের ভাল সুবিধা না থাকায় গাড়ি আমদানি কমে গেছে। তবে কাস্টোমস্ কর্মকর্তাদের দাবি, ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন রাইড শেয়ারিংয়ের ফলে সাধারণ মানুষ এখন গাড়ি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি কমেছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, শুল্কের হার কমিয়ে আনলে বাংলাদেশে আগের মত গাড়ি ক্রয়ের চাহিদা বাড়বে। পাশাপাশি এ সেক্টরে মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

মোংলা কাস্টোমস্ হাউজ সূত্রে জানা য়ায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোংলা সমুদ্র বন্দরে ১৫ হাজার ৯‘শ ৫০টি গাড়ি আমদানি হয়েছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা কমে ১৫ হাজার ৩‘শ ৮০টিতে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আশঙ্কাজনক হারে কমে ১২ হাজার ৬‘শ ১২টিতে নেমে আসে ।

এদিকে রাজস্বের কথা আসলে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ সালে গাড়ি আমদানি থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ১ হাজার ৮‘শ ৩৫ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২‘শ ৫২ কোটি টাকা কমে রাজস্ব দাড়িয়েছে ১ হাজার ৫‘শ ৮৩ কোটি ৩৮ লাখে।

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ২০১৭-১৮ সালে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার ১‘শ ২১টি গাড়ি আমদানি হলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৪‘শ ৩২টিতে। এই হিসেবে, গেল এক বছরের চট্টগ্রাম বন্দরে ৫৬ হাজার ৬‘শ ৮৯টি গাড়ি আমদানি কমেছে।

গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) এর সভাপতি আবদুল হক বলেন, গাড়ি আমদানিতে শুল্ককরে যে সুবিধা ছিল, তা সবচেয়ে বেশি কমিয়ে আনা হয় গত অর্থবছর। গাড়ি আমদানিতে বারবার নীতি পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যবসায়ীরাও আমদানিতে অনেকটা রক্ষণশীল হয়ে গেছেন। যার ফলে গাড়ি আমদানি কমেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কাস্টোমস হাউসের যুগ্ন-কমিশনার এসএম শামসুজ্জামান বলেন, শুল্ক বৃদ্ধি নয়, রাইড শেয়ারিংয়ের কারণে আমদানি কমেছে।

মোংলা কাস্টোমস্ হাউসের কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় শহরে রাইড শেয়ারিং সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দু’বছর ধরেই মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি কমছে। আবার অনেকের আমদানিকৃত গাড়ি বন্দরে পরে আছে। কিন্তু বিক্রি না হওয়ায় খালাস করছে না ব্যবসায়ীরা।


জুমবাংলানিউজ/পিএম