ক্যাম্পাস বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

৪ শিক্ষার্থীর প্রচেষ্টায় হাঁটল সুন্দরী রোবট সিনা, দেখুন ছবিতে


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উদ্যমী চার শিক্ষার্থী মাত্র দুই মাসে তৈরি করেছে দেশের চতুর্থ মানব রোবট। যেটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে মাত্র ৩৮ হাজার টাকা। যার নাম দিয়েছেন তারা সিনা। এই নামেরও রয়েছে এক অসাধারণ ব্যাখ্যা। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নামের শেষ দুই বর্ণ নিয়েই নাম দিয়েছে রোবট ‘সিনা’।

রোবটটির ইলেকট্রনিকসের কাজে ছিলো দলটির দলনেতা ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র সঞ্জিত মন্ডল, প্রোগ্রামিং অর্থাৎ সফটওয়্যার অংশের কাজ করে আইসিটি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল নাথ, নকশাকারের কাজে ছিল পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সায়েদুর রহমান ও আইসিটি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী নিয়াজ আল মাসুম। তারা চারজন মিলে কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির (বার্ড) অর্থায়নে তৈরি করেছে এ রোবট।

তরুণ এ চার গবেষকের তৈরিকৃত রোবটটি হাত-পা, ঘাড় নড়াচড়া ও মানুষের মতো ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। সিনা মানুষের সঙ্গে করমর্দন করে, স্যালুট দেয়, টাটা দেয়, চাকার মাধ্যমে যেকোনো দিকে যেতে পারে এবং কেউ ইংরেজিতে যা প্রশ্ন করে তার উত্তর দিতে পারে। সিনা দেখতে অনেকটা সুন্দরী ও আকর্ষণীয় তরুনীর মতো। সিনার উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি এবং ওজন ২২ কেজি। রোবটটিতে আর্ডুইনো মেগায় সি প্রোগ্রামিং ভাষায় রোবটের কন্ট্রোল মোশনসহ যাবতীয় সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। হাত ও ঘাড় মুভমেন্টের জন্য ৯টি সার্ভো, পায়ে নড়াচড়ার জন্য ২ টি মোটর, ২ টি আল্ট্রাসনিক সেন্সর ব্যবহার করা হয়। যা পরিচালনা করা হয় দুইটি মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে।

রোবটটি বর্তমানে বার্ডের লাইব্রেরিতে প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকাল ৫.০০ টা পর্যন্ত এটি দেখার সুযোগ পায় দর্শনার্থীরা। যা দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ও পর্যটকরা ভিড় জমায়। রোবটটি পরিদর্শন করতে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, এতো সহযে চোখের সামনে রোবট দেখতে পাবো কোনদিনই ভাবিনি। রোবট সিনা আমাদের সাথে কথা বলেছে এবং আমাদের সাথে করমর্দন করেছে ও নেচে দেখিয়েছে।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগ থেকেই প্রোগ্রামিং করতাম টুকটাক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই এমন একটা সুযোগ পাবো বুঝিনি। প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে এটা আমার কাছে অনেক কঠিন ছিলো। তবে আমরা যেটুকু পেরেছি তা আমাদের সবার অর্জন। তবে সবচেয়ে বড় কথা এই প্রজেক্ট থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। কাজ করতে গিয়ে ক্লান্তিতে কখনও পিছপা হইনি।’ এমনটাই বলছিলেন রোবটটি তৈরি করা দলের প্রোগ্রামের জুয়েল নাথ।

দলের অন্য এক সদস্য নিয়াজ আল মাসুম বলেন,‘আমাদের বাজেট ছিল খুবই কম আর সময়ও স্বল্প। তাই কাজ করতে গিয়ে নিয়মিতই হিমশিম খেতে হয়েছে। কখনও কম খরচে ভালো মানের ডিভাইসগুলো কিনতে গিয়ে ঘুরতে হয়েছে কয়েক ঘন্টা। এর পরেও সফলতাই আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়।’

রোবট তৈরি দলের দলনেতা সঞ্জিত মন্ডল বলেন,‘ছোটবেলা থেকে রোবটের প্রতি আকর্ষণ ছিল খুব। কিন্তু বাস্তবে তেমন রোবট দেখতে পাইনি। যদিওবা বিভিন্ন প্রদর্শনীতে যেতাম রোবট দেখতে কিন্তু সেগুলো রোবট নাম দিলেও বাস্তবে দেখতাম খেলনা। স্কুলজীবন থেকেই রোবট বানানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সামর্থ্য ছিল না। টিউশনির ঢাকায় এটা-সেটা কিনে ছোট রোবট তৈরি করার চেষ্টা করতাম। ছোট ছোট রোবট বানিয়ে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে জুটেছিল পুরস্কারও। কুমিল্লা শহরে নিজের ভাড়া বাসায় ল্যাব বানিয়েছি। সেখানেই আমরা রোবট সিনাকে তৈরি করেছি। টাকা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার জন্য দামী কোনো কিছুই আমরা ব্যবহার করতে পারি নাই। কারণ রোবট নিয়ে ভাবতেই লাগে দু’মাস। তাই নরমাল ভাবেই সিনাকে তৈরি করতে হয়েছে। ভবিষ্যতে ভালো কোন সুযোগ পেলে আরও ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো।’

জুমবাংলানিউজ/এসআই


আপনি আরও যা পড়তে পারেন